মৃত বাবাকে ৪ বছর ধরে ফ্রিজে রেখে জীবিত করার চেষ্টা! ছেলের এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখলে গায়ে কাঁটা দেবে!

মুম্বইয়ের কুরার এলাকায় এক অত্যন্ত অদ্ভুত ও লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। মৃত বাবাকে ফের একদিন জীবিত করার অবাস্তব প্রচেষ্টায় ছেলের মর্মান্তিক ও অদ্ভুত এক কাণ্ড দেখে রীতিমতো শিউরে উঠেছেন এলাকাবাসী থেকে শুরু করে তদন্তকারী পুলিশকর্তারাও। মালাডের কুরারে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ডে-কেয়ার সেন্টার কাম হাসপাতালের তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পচনধরা মৃতদেহ। প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবন্ধ থাকা ওই ঘর থেকে রহস্যজনকভাবে গন্ধ বের হতেই প্রকাশ্যে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমের দিকে ঘটনাটিকে কোনো সাধারণ অপরাধমূলক বিষয় বলে মনে হলেও, পুলিশের তদন্ত যত এগিয়েছে ততই এর আসল ও বিস্ময়কর রূপটি সামনে এসেছে।
৪ বছর আগে মৃত্যু, তবুও ছেলের অবাস্তব আশা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মৃত ব্যক্তি আজ থেকে প্রায় চার বছর আগেই মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের পক্ষে তাঁর বাবার চিরতরে চলে যাওয়া বা আকস্মিক মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর প্রবল বিশ্বাস ছিল, ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির মাধ্যমে একদিন হয়তো তাঁর বাবাকে আবার সুস্থ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে! আর সেই সুদূরপরাহত ও অবাস্তব আশার বশবর্তী হয়েই তিনি বাবার মৃতদেহটি দীর্ঘ চার বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।
ক্রায়োনিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে আমেরিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শোকার্ত পরিবারটি মৃতদেহটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ ‘ক্রায়োনিক্স’ (Cryonics) প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিল। ক্রায়োনিক্স হলো অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় মৃতদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। যার মূল উদ্দেশ্য হলো, ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞান যখন আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে, তখন মৃত ব্যক্তিকে যেন পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিমণ্ডলে এখনও পর্যন্ত ক্রায়োনিক্সের মাধ্যমে কোনো মৃত মানুষকে সফলভাবে বাঁচিয়ে তোলার কোনো নজির নেই এবং এই প্রযুক্তি পুরোপুরি পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে। তা সত্ত্বেও আইনি জটিলতা, বিশাল লজিস্টিক খরচ এবং আর্থিক নানা সমস্যার কারণে পরিবারটি শেষ পর্যন্ত মৃতদেহটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সেই পরিকল্পনা সফল করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে প্রায় চার বছর ধরে মৃতদেহটি ওই ঘরের একটি বিশেষ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল এবং পচন রোধ করতে বিভিন্ন রাসায়নিক ও সংরক্ষণের পদ্ধতিও প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত ও শেষকৃত্যের প্রস্তুতি
বর্তমানে এত দীর্ঘ সময় ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে কীভাবে একটি মৃতদেহ ওইভাবে রাখা সম্ভব হলো এবং মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় সরকারি শংসাপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ। তবে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরিবারটি এখন নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি ও প্রথা মেনে মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।