অষ্টমীর অঞ্জলিতে কোন রঙের পোশাক পরলে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ মিলবে? ভুলেও এই রঙগুলি পরবেন না!

শারদীয়া দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও কেন্দ্রবিন্দু হলো মহাঅষ্টমী। আর এই অষ্টমীর পবিত্র সকালে অঞ্জলি দেওয়া বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে কেবল একটি আচার নয়, এটি এক গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার জায়গা। তবে অঞ্জলি দেওয়ার ঠিক আগে কোন রঙের পোশাক পরা উচিত এবং দেবী দুর্গার ঠিক কোন রঙগুলি সবচেয়ে বেশি প্রিয়, তা নিয়ে প্রতিবারই পুজোপ্রার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। শাস্ত্র এবং পুরাণ মতে, পুজোর দিনগুলিতে পোশাকের সঠিক রঙ নির্বাচন শুধুমাত্র বাহ্যিক সাজসজ্জা বা ফ্যাশন নয়, এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ইতিবাচক শক্তির এক গভীর সংযোগ।
অষ্টমীর অঞ্জলির জন্য কোন রঙগুলি সবচেয়ে শুভ?
শাস্ত্রজ্ঞ ও পন্ডিতদের মতে, মহাঅষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য মূলত লাল, হলুদ এবং বাসন্তী রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ ও মঙ্গলজনক।
লাল রঙ: লাল হলো মহাশক্তি, উৎসাহ এবং পরম পবিত্রতার প্রতীক। বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের জন্য লাল পেড়ে সাদা শাড়ি বা সম্পূর্ণ লাল রঙের জমকালো পোশাক পরা অত্যন্ত auspicious বা শুভ বলে মনে করা হয়।
হলুদ ও বাসন্তী রঙ: হলুদ এবং বাসন্তী রঙ হলো জ্ঞান, অভ্যন্তরীণ আনন্দ ও সমৃদ্ধির প্রতীক। জীবনের নতুন সূচনা ও মানসিক শান্তির অন্বেষণে অঞ্জলির সময় এই রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত ফলদায়ক।
সবুজ রঙ: দেবীর নবপত্রিকা বা ‘কলাবউ’ রূপে নয়টি উদ্ভিদের পুজো হয়, যা মূলত প্রকৃতির সবুজ রূপেরই প্রতীক। তাই সবুজ রঙকেও দেবীর বিশেষ কৃপা লাভের উপযুক্ত বলে গণ্য করা হয়।
কোন রঙগুলি এড়িয়ে চলা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টমীর মতো পবিত্র দিনে কালো, গাঢ় নীল বা ধুসর (ধোঁয়াটে) রঙের পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। কারণ শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রঙগুলি নেতিবাচক শক্তি বা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
দেবীর প্রিয় রঙের পৌরাণিক রহস্য
পৌরাণিক কাহিনী ও ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ অনুসারে, শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা হলেন তেজ, রূপ ও সাহসের নিখুঁত সংমিশ্রণ। দেবীর প্রিয় রঙের নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পৌরাণিক ব্যাখ্যা:
১. লাল (শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক): দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুর বধের উদ্দেশ্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সহ সমস্ত দেবদেবীর তেজ থেকেই তাঁর অপার্থিব সৃষ্টি হয়। সেই সময় দেবতারা দেবীকে রক্তবর্ণের বস্ত্র, লাল চন্দন এবং লাল জবা ফুলের মালা উপহার দিয়েছিলেন। লাল রঙ যেহেতু অসুরবিনাশী শক্তির প্রতীক, তাই এই রঙে দেবী সবচেয়ে বেশি প্রসন্ন হন।
২. হলুদ ও কাঁচা সোনার রঙ: দেবী দুর্গার অন্যতম রূপ হলো ‘মহাগৌরী’, যিনি বিশেষভাবে মহাঅষ্টমীর দিনে পূজিতা হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, কঠোর তপস্যার মাধ্যমে দেবী পার্বতী গৌরবর্ণ বা তপ্ত কাঞ্চনের (কাঁচা সোনার) মতো কান্তি লাভ করেছিলেন। হলুদ বা সোনালী রঙ সর্বদা শুভতা ও সমৃদ্ধির বার্তা বহন করে, যা দেবীর এই মহাগৌরী রূপের অত্যন্ত প্রিয়।
তাই আসন্ন অষ্টমীতে সঠিক রঙের পোশাক বেছে নিয়ে মায়ের চরণে অঞ্জলি দিন এবং আপনার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে তুলুন।