দুর্গাপুজোয় মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি! সাধারণ মানুষের আনন্দ দ্বিগুণ করে বিরাট ঘোষণা সরকারের!

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ আর্থিক অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোকে আরও আনন্দমুখর করে তুলতে সরকারি ছুটির মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা পেতে চলেছেন টানা দীর্ঘ ছুটির সুযোগ।

অনুদান বাড়ল পুজো ও চীবর দানে
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে চার কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে সরাসরি পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ‘কঠিন চীবর দান’ অনুষ্ঠান সফল করতে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য দুই কোটি টাকা চাওয়া হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে তা বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উৎসবের আনন্দ সকল মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতেই এই বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

একনজরে ছুটির তালিকা: কবে থেকে কবে বন্ধ অফিস?
উৎসবের মরশুমে রাজ্যবাসীর খুশির মাত্রা দ্বিগুণ করে ছুটির তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি ছুটির নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী—

২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার): নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।

২১ অক্টোবর (বুধবার): বিজয়া দশমীর জন্য নির্ধারিত রয়েছে সাধারণ ছুটি।

২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার): এর পরের দিন অফিস-আদালত খোলার কথা থাকলেও, বিশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী ওই দিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার): এই দু’দিন যথাক্রমে সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিন।

ফলে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি উপভোগ করার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ছুটির এই দীর্ঘ মেয়াদে সাধারণ ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকলেও, এটিএম, অনলাইন ও ডিজিটাল পরিষেবাগুলি আগের মতোই স্বাভাবিক ও সচল থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, জল এবং গ্যাস সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবাগুলির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ছুটির দিনগুলিতেও তাঁদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।

টানা পাঁচ দিনের এই ছুটির ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা আরও বেশি সময় ধরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের সুযোগ পাবেন। সরকারের এই যুগোপযোগী ও জনমুখী সিদ্ধান্তকে একটি ইতিবাচক ও ভিন্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *