৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসা! কীভাবে আবেদন করবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা যোজনায়?

চলতি বছরের অগাস্ট মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আয়ুস্মান ভারত যোজনা এবং এর পাশাপাশি পথ চলা শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা যোজনা। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ কমাতে এবং তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আয়ুস্মান ভারত কার্ডের মতো ঠিক একই প্রক্রিয়ায় এই প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে। আবেদন করার জন্য এলাকার আশাকর্মীদের কাছ থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে তা পূরণ করতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশের যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে যাবেন।
কোন কোন হাসপাতালে মিলবে এই সুবিধা?
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা মিলবে রাজ্যের অন্তত ১৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বাইরে অবস্থিত কোনো বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করালেও এই কার্ডের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। জাতীয় পোর্টেবিলিটির মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের হাসপাতালেই এই পরিষেবা গ্রহণ করা সম্ভব। এছাড়া এই প্রকল্পে পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা, বয়স বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো রকম ঊর্ধ্বসীমা বা নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি।
কীভাবে আবেদন করবেন?
মুখ্যমন্ত্রী আয়ুস্মান ভারত বা স্বাস্থ্যবীমা যোজনার কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া বেশ সহজ। এলাকার আশাকর্মীদের কাছেই এই প্রকল্পের নির্দিষ্ট ফর্ম পাওয়া যায়। ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে তা আবার আশাকর্মীদের কাছেই জমা দিতে হবে। তাঁরাই সেই ফর্ম বিডিও (BDO) অফিস বা পৌরসভায় গিয়ে জমা দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন। পরবর্তী ধাপে ই-কেওয়াইসি (e-KYC)-র মাধ্যমে কার্ড ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ সম্পূর্ণ হলে, অনলাইনে অথবা আশাকর্মীদের মাধ্যমেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত কার্ডটি হাতে পেয়ে যাবেন।
কী কী চিকিৎসা পরিষেবা এবং সুবিধা মিলবে?
এই কার্ডের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, আগে থেকেই শরীরে বাসা বাঁধা বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রেও প্রথম দিন থেকেই কভারেজ বা সুরক্ষা পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতো প্রি-এক্সিস্টিং কন্ডিশনের জন্য রোগীদের আলাদা করে কোনো অপেক্ষার সময়সীমা পার করতে হয় না। তাছাড়া, হাসপাতালে ভর্তির আগের সর্বোচ্চ তিন দিনের এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত খরচও এই বিমার আওতাভুক্ত থাকে।
কারা এই কার্ডের জন্য যোগ্য?
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে সোসিও-ইকোনমিক কাস্ট সেন্সাস বা SECC ২০১১-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে প্রধানত গ্রামীণ এলাকায় নির্দিষ্ট ধরনের কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার, ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য না থাকা পরিবার, ভূমিহীন শ্রমিক এবং নির্দিষ্ট কিছু তফসিলি জাতি ও উপজাতি পরিবার এই স্বাস্থ্যবীমা যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।