ব্যাঙ্কের এফডি ভুলে যান! পোস্ট অফিসের এই দারুণ স্কিমে প্রতি মাসে নিশ্চিত আয় ২০,৫০০ টাকা

ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের হারে কি খুব একটা সন্তুষ্ট নন? নিরাপদ জায়গায় টাকা রেখে যদি প্রতি মাসে নিশ্চিত আয়ের রাস্তা খুঁজছেন, তবে পোস্ট অফিসের একটি বিশেষ স্কিম আপনার জন্য দারুণ লাভজনক হতে পারে। প্রবীণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই স্কিমে বিনিয়োগ করলেই প্রতি মাসে মিলতে পারে ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত রিটার্ন। পাশাপাশি রয়েছে সরকারি নিরাপত্তা ও কর ছাড়ের সুব্যবস্থা।
কোন স্কিমে মিলছে এই সুবিধা? পোস্ট অফিসের এই জনপ্রিয় স্কিমটির নাম ‘সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম’ (Senior Citizen Savings Schemes)। বর্তমানে এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের অধিকাংশ সাধারণ ব্যাঙ্কের সুদের হারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই স্কিমটি বিনিয়োগকারীদের ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিশ্চিত আয় দেয়, যা রিটায়ারমেন্টের পরের জীবনকে অনেকটাই আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে।
কত টাকা বিনিয়োগ করা যায়? এই স্কিমে মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। একক বা সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
-
সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
-
যাঁদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং যাঁরা স্বেচ্ছাবসর বা ভিআরএস (VRS) নিয়েছেন, তাঁরাও এই স্কিমে টাকা রাখতে পারেন।
-
প্রতিরক্ষা বা ডিফেন্সের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বয়সের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ বছর।
-
এই স্কিমে যে কেউ এককভাবে অথবা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও খুলতে পারবেন।
সুদ ও আয়ের হিসেব এই স্কিমের মেয়াদকাল হলো ৫ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হলে তা আরও ৩ বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া যায়। বর্তমান ৮.২ শতাংশ সুদের হার অনুযায়ী, কেউ যদি এই স্কিমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে বছরে সুদ বাবদ প্রায় ২.৪ লক্ষ টাকা অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, এই স্কিমে যদি কেউ ২০ লক্ষ টাকা রাখেন, তবে ৫ বছর শেষে তিনি মোট ২৮.২ লক্ষ টাকা ফেরত পাবেন, যার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেই প্রায় ৮.২ লক্ষ টাকা সুদ দেওয়া হয়।
টাকা তোলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম রয়েছে? বিনিয়োগের পর জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়:
-
অ্যাকাউন্ট খোলার প্রথম এক বছরের মধ্যে টাকা তুলে নিলে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
-
১ থেকে ২ বছরের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে মূল টাকার ওপর ১.৫ শতাংশ কেটে রাখা হয়।
-
২ বছর পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে ১ শতাংশ আর্থিক জরিমানা দিতে হয়।
নিরাপদ সঞ্চয় এবং নিশ্চিত রিটার্নের কথা চিন্তা করলে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত আর্থিক পরিকল্পনা।