গোপনে আমিরাত ছুটে গেলেন নেতানিয়াহু! ৭ অক্টোবরের কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য ঢাকতে এই জরুরি সফর?

কোনো পূর্বঘোষণা নেই, নেই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল। একেবারে গোপনীয়তা বজায় রেখে একটি ব্যক্তিগত বিমানে সংক্ষিপ্ত সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে উড়ে গেলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে এই গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক সফর এবং এর নেপথ্যে কোন বড় সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে এখন সরগরম মধ্যপ্রাচ্য।

গোপন সফরের নেপথ্য কারণ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সফরটি সম্পন্ন হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও তেল আবিব জানিয়েছে, দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক নানা অভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের আসল কারণ বেশ জটিল।

সম্প্রতি ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বিন জায়েদ একটি বড় ধরনের হামলার ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। আর সেই ফাটল ঢাকতেই নেতানিয়াহুর এই জরুরি আবু ধাবি সফর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও ইরান ফ্যাক্টর আগামী ২৭শে অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন। ৭ই অক্টোবরের হামলার নিরাপত্তা ত্রুটি ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে দেশের ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী আরব নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে তিনি ভোটারদের এটাই বার্তা দিতে চাইছেন যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর কূটনৈতিক অবস্থান এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী।

পাশাপাশি, এই বৈঠকে কেবল পুরনো বিতর্কই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরানের প্রভাব এবং সম্ভাব্য কৌশলগত উত্তেজনা মোকাবিলা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই গোপন বৈঠক আগামী দিনে আঞ্চলিক রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *