“তোকে খুব মনে পড়ে রে!” তাপসের জন্মদিনে প্রসেনজিতের নস্টালজিক পোস্ট দেখে কেঁদে ভাসল নেটপাড়া

কেটে গেছে প্রায় ছ’টি বছর। ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমস্ত মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বাংলা সিনেমার একসময়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র তাপস পাল। আজ, ২৯ সেপ্টেম্বর প্রয়াত এই অভিনেতার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটিতে প্রিয় বন্ধুকে স্মরণ করে সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্ট করেছেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আর প্রসেনজিতের সেই নস্টালজিক পোস্টের পাশাপাশি প্রয়াত স্বামীর জন্মদিনে এক না বলা বেদনায় ভরা খোলা চিঠি লিখেছেন তাপসপত্নী নন্দিনী মুখার্জি পালও। যা এক লহমায় ফিরিয়ে এনেছে বাংলা সিনেমার সোনালী দিনের বহু পুরনো স্মৃতি।

“তোকে খুব মনে পড়ে রে…” প্রসেনজিতের নস্টালজিক পোস্ট
তাপস পালের জন্মদিনে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি পুরনো সাদা-কালো ছবি শেয়ার করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই ছবিতে দু’জনকেই হাসিমুখে একে অপরের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে প্রসেনজিৎ লিখেছেন, “একসাথে কত বছর, কত গল্প, কত হাসি…। ২৯ শে সেপ্টেম্বর এলেই আজও কত স্মৃতি মনে পড়ে… তোকে খুব মনে পড়ে রে। শুভ জন্মদিন রে তাপস। যেখানে থাকিস, ভালো থাকিস।”

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে বাংলা সিনেমার রূপোলি পর্দায় প্রসেনজিৎ ও তাপস পালের জুটি মানেই ছিল বক্স অফিসে সাফল্যের গ্যারান্টি। ‘সংঘর্ষ’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘চোখের আলোয়’, ‘প্রতিশোধ’, ‘শুধু তোমারই’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ও কালজয়ী ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। পর্দার বাইরের বন্ধুত্বও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ব্যাপক চর্চায় থাকত। জন্মদিনে প্রসেনজিতের এই প্রীতি ও নস্টালজিয়া ভিজেছে নেটিজেনদের চোখও।

জন্মদিনে স্বামীর উদ্দেশে স্ত্রীর আবেগঘন খোলা চিঠি
প্রয়াত স্বামীর জন্মদিনে কলম ধরেছেন তাপসপত্নী নন্দিনী মুখার্জি পালও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ ও হৃদয়বিদারক খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। আজ তোমার জন্মদিনে, তোমার অনুপস্থিতি আমাকে এমন এক তীব্র যন্ত্রণায় ডোবায় যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, তবুও প্রতি মুহূর্তে আমি তোমাকে আমার পাশেই অনুভব করি।”

চিঠিতে তাঁদের মেয়ে এবং সম্প্রতি ‘বিগ বস’ হাউজ থেকে ফিরে আসা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “আমাদের মেয়ে বিগ বস হাউস থেকে ফিরে এসেছে, আর আমার কোথাও না কোথাও মনে হয়, তুমি তোমার ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গেই ছিলে, সবসময় তার ওপর নজর রেখেছ, নিজের মতো করে তাকে রক্ষা করেছ। বিগ বস একটা খেলা, আর জীবনও একটা খেলা; তবে জীবনই সবচেয়ে আসল খেলা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের সামনে উন্মোচিত হয় এবং পরের মুহূর্তে কী আসবে তা আমরা কেউ জানি না।”

স্মৃতির পাতা হাতড়ে নন্দিনী আরও লেখেন, “যখন সে জন্মায়, তুমি উত্তরবঙ্গে তোমার আউটডোরে ছিলে, আর আমার এখনও মনে আছে তুমি কীভাবে দৌড়ে এসেছিলে। তুমি সবসময় মেয়েদের খুব ভালোবাসতে, এবং আমি তোমার মধ্যে লিঙ্গবৈষম্যের সামান্যতম ছাপও দেখিনি। তোমার কাছে, ছেলে বা মেয়ে মানেই ছিল এমন এক সন্তান যাকে ভালোবাসতে হবে, লালন-পালন করতে হবে এবং ওড়ার জন্য ডানা দিতে হবে। আমাদের বিয়ের বাহান্ন বছর হয়ে গিয়েছে, যদিও তুমি এখন আর নেই, তবুও তুমি আমার স্বামী, এবং যতদিন না আমি চোখ বুজছি, তুমি আমার স্বামী হিসেবেই থাকবে।” প্রয়াণের এত বছর পরেও বাংলা চলচ্চিত্রের এই নায়কের জন্মদিন যেন এক অন্য আবেগ নিয়ে হাজির হলো ভক্তদের মনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *