ভোটের ঠিক আগে মেগা টুইস্ট! হাইকোর্টের রায়ে সব মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্ত নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত পুরনো মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হয়েছে তাঁর। এর ফলে ভোট প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না তাঁর পক্ষে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর এই জামিন বহাল থাকবে। তবে শর্ত হিসেবে তাঁকে নিজের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার আইও (IO)-র কাছে জমা দিতে হবে।
গ্রেফতারি ও পুরনো মামলার প্রেক্ষাপট
গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। প্রায় ১৯ বছর আগের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময়কার হিংসার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি সহ মোট কয়েকটি মামলা রুজু হয়েছিল। খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল সেই তালিকায়। এমনকি এই সমস্ত মামলার কথা তিনি নিজের মনোনয়নপত্রেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন।
আইনি লড়াইয়ের জেরে গত বুধবার মিলন প্রধানের আইনজীবীরা বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে জামিনের আর্জি জানান। আদালত সেই মামলা গ্রহণের অনুমতি দিলে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন যে, উপনির্বাচনে ওই প্রার্থীকে লড়তে দেওয়া হোক এবং তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছেন। এরপর শুক্রবার ও সোমবার আইনি প্রক্রিয়া চলার পর অবশেষে মঙ্গলবার কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াই
উল্লেখ্য, এই জামিন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এর আগে আদালতেও তীব্র টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের অন্য একটি একক বেঞ্চ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না’ বলে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জনস্বার্থ মামলায় ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে কড়া পর্যবেক্ষণ রাখা হয়।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রায় ২০ বছর ধরে অভিযুক্ত পলাতক থাকার পর হঠাৎ ভোটে দাঁড়িয়ে জামিন চাওয়া এবং খুনের মামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের ছাড় দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে একটি ‘খুব খারাপ নজির’ তৈরি করবে। আদালতের প্রশ্ন ছিল, ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার খাতিরে এমন জামিন দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অপরাধমূলক অভিযোগে বিদেশের মাটিতে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিরাও নির্বাচনে লড়ার জন্য সাময়িক জামিনের আর্জি জানাতে পারে।
তবে সমস্ত আইনি বিতর্ক ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ থেকে সমস্ত হেফাজতের মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ায় নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দানে কংগ্রেস শিবিরের অন্দরে স্বস্তির হাওয়া বইছে।