৩৬ ঘণ্টার জাদুকরী কৌশল! নীরবতা ভেঙে কীভাবে সব ঝড় সামলে নিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার?

বিগত কয়েকদিন ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপ্রণালী নিয়ে বিরোধী শিবির ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে যাওয়া একগুচ্ছ নাটকীয় ঘটনায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিরোধীদের সমস্ত চাপ ও জল্পনাকে একপাশে সরিয়ে কীভাবে নিজের অবস্থানকে আরও মজবুত করলেন সিইসি, তা নিয়ে এখন চলছে জোর চর্চা।
৩৬ ঘণ্টায় কী কী বড় পরিবর্তন এল?
বিতর্কের ঝড় ওঠার পর গত কয়েক ঘণ্টায় মূলত তিনটি প্রধান মোর্চায় বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার:
-
তিন কমিশনারের বৈঠক ও যৌথ বার্তা: গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনার সুখবীর सिंह संधू ও বিবেক জোশীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠক হয়। বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত স্পষ্টীকরণ জারি করা হয় এবং তিন কমিশনারের একসঙ্গে একটি ছবিও সামনে আসে। এর মাধ্যমে কমিশনের অন্দরে অনৈক্য বা মতবিরোধের জল্পনায় জল ঢেলে দেওয়া হয়।
-
রাজনৈতিক মহলে জোরালো সমর্থন: বিরোধীরা যখন সিইসির পদত্যাগ ও আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলছিল, ঠিক তখনই ময়দানে নামে শাসকশিবির। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিজেপির ১২ জন মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়ান। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সাংবিধানিক সংস্থাকে অকারণে কালিম্পিপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধীরা।
-
আইনি ও বিচারিক ময়দান: বোম্বে হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও, সেখান থেকে সিইসি বা কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক কঠোর নির্দেশ আসেনি। ফলে আইনি চাপও কিছুটা হলেও সীমিত রয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ ও কমিশনের সাফাই
মূলত ফর্ম-৬-এ নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা, ভোটার ডেটার কেন্দ্রীকরণ এবং নির্দিষ্ট কিছু নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি ওঠার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়। বিরোধীরা এই পুরো প্রক্রিয়াকে কারচুপির চেষ্টা হিসেবে দেগে দিয়ে সিইসির বিরুদ্ধে তদন্ত ও অপসারণের দাবি তোলে।
তবে এই সমস্ত সমালোচনার মুখে পড়েও কোনো রকম চটজলদি রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর এই ‘কৌশলী নীরবতা’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।