রেলের পোশাক পরা লোকো পাইলটের ফাঁদ! চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্টেশন থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ—তোলপাড়

বিহারের কাটিহারে ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রেলের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি নিজেকে সহকারী লোকো পাইলট হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১৯ বছর বয়সি এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় যুবকদের সাহসিকতায় কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসার পর ওই ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর পারিবারিক বিষয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ঘর ছেড়ে কাটিহার রেল স্টেশনে এসে উপস্থিত হন ওই তরুণী। সেই সময়ই রেলের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি তাঁর কাছে আসেন এবং নিজেকে চন্দন কুমার নামের এক সহকারী লোকো পাইলট হিসেবে পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে চন্দন কুমার তাঁকে স্টেশন থেকে দূরে সহায়ক থানার অন্তর্গত বারমাসিয়া মহল্লায় তার ভাড়া করা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরই তরুণীর ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন তার বন্ধুদের ফোন করার চেষ্টা করে, তখন পরিস্থিতি বুঝে ফেলায় কোনোমতে ঘর থেকে পালিয়ে চিৎকার শুরু করেন ওই তরুণী।

স্থানীয় যুবকদের হস্তক্ষেপে রক্ষা

তরুণীর আর্তনাদ শুনে আশপাশের কিছু যুবক দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাঁকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চন্দন কুমার ও তার এক সহযোগী সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চম্পট দেয়। আকস্মিক এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে প্রথমে ভয় পেয়ে যান ওই যুবতী। তবে ঘটনার কয়েকদিন পর তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সোজা থানায় পৌঁছান এবং গোটা বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি, যে স্থানীয় যুবক প্রথম তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন, তিনিও পুলিশ প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত শুরু

কাটিহারের পুলিশ সুপার (এসপি) পরিচয় কুমার জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত চন্দন কুমারের আসল পরিচয় কী এবং রেলের পোশাক পরে সে এই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *