NEET-এ ব্যর্থতা মানেই কি কেরিয়ার শেষ? লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভরসা এখন এই ‘প্ল্যান বি’, হু হু করে বাড়ছে আবেদন

প্রতি বছর ২০ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে NEET UG পরীক্ষার ময়দানে নামেন। কিন্তু আসন সীমিত থাকায় শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ লক্ষের কাছাকাছি প্রার্থীই এমবিবিএস, বিডিএস বা বিএএমএস-এর মতো কাঙ্ক্ষিত কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান। বাকি প্রায় ১৮ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে একপ্রকার হতাশার মুখেই পড়তে হয়। আর ঠিক এখানেই তৈরি হচ্ছে এক বিরাট পরিবর্তন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে কেরিয়ার গড়ার তাগিদে তরুণ প্রজন্ম এখন ঝুঁকে পড়ছে অন্য বিকল্পগুলির দিকে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান AIIMS-এ বিএসসি নার্সিং এবং অ্যালাইড হেলথ সায়েন্সেস কোর্সের জন্য আবেদনের সংখ্যা ১১ থেকে ১৮ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
AIIMS-এ কোন কোন কোর্স রয়েছে?
দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS) স্নাতক স্তরে নার্সিং ছাড়াও একাধিক বিশেষায়িত অ্যালাইড হেলথ কোর্স অফার করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, অফথালমিক সায়েন্সেস, রেডিওথেরাপি এবং পারফিউশন টেকনোলজির মতো অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন কোর্সগুলি। মূলত একটি প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমেই এই সমস্ত কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা।
বিএসসি নার্সিংয়ে রেকর্ড আবেদন, বৃদ্ধি ১১ গুণ
সম্প্রতি একটি আরটিআই (RTI) রিপোর্টের মাধ্যমে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা এককথায় তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর AIIMS-এর বিএসসি নার্সিং কোর্সে ভর্তির জন্য জমা পড়েছে ১ লক্ষ ৮২ হাজার আবেদনপত্র। আরটিআই আবেদনকারী বিপুল শর্মার তথ্য বলছে, ২০২১ সালে যেখানে এই কোর্সের জন্য মাত্র ১৬,৪৮৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা এক লাফে প্রায় ১১ গুণ বেড়ে গিয়েছে।
পাশাপাশি, অ্যালাইড হেলথ কেয়ার কোর্সের ছবিটাও ঠিক একই রকম চমকপ্রদ। ২০২১ সালে যেখানে মাত্র ৬,৮৭৮ জন প্রার্থী এই কোর্সগুলির জন্য আবেদন করেছিলেন, ২০২৬ সালে এসে সেই সংখ্যা পৌঁছে গেছে ১ লক্ষ ২৬ হাজারে। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৮ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু এইমস নয়, চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর (PGIMER)-এর মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলিতেও একই রকম ট্রেন্ড লক্ষ করা যাচ্ছে।
সাশ্রয়ী ফি ও শক্তিশালী ‘প্ল্যান বি’—মূল চাবিকাঠি
AIIMS-এর নার্সিং ও অ্যালাইড হেলথ কোর্সের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ঝোঁক বাড়ার পেছনে প্রধানত দুটি বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, এই কোর্সগুলির অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচ। নামমাত্র ফি—অর্থাৎ মাত্র ১৫০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যেই এখানে গোটা কোর্স সম্পন্ন করা সম্ভব, যা সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের বড় স্বস্তি দেয়।
দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে বড় কারণটি হলো পরীক্ষার্থীদের ‘প্ল্যান বি’। NEET UG-এর কঠিন প্রতিযোগিতায় সফল হতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থীই এখন নার্সিং বা অ্যালাইড হেলথ সায়েন্সকে নিজেদের বিকল্প কেরিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এমবিবিএস পড়ার স্বপ্ন অধরা থেকে গেলেও চিকিৎসা ক্ষেত্রের সঙ্গেই যুক্ত থাকার সুবর্ণ সুযোগ পাওয়ায় দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই কোর্সগুলি এখন নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।