লোকে-লোকারণ্য ট্রেনের কামরা, চক্ষু-লজ্জার মাথা খেয়ে সপার্শ্বে প্রকাশ্যে প্রস্রাব! ভাইরাল ভিডিয়ো দেখে শিউরে উঠবেন

লজ্জার সমস্ত সীমা পার করে খাস ট্রেনের কামরার ভেতর এমন এক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে, যা দেখে যেকোনো সভ্য মানুষের মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। চোখের লজ্বা বা সামান্যতম সিভিক্স সেন্স—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে কানায় কানায় ভরা ট্রেনের বগির ভেতরেই এক যাত্রীর প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার একটি ভিডিয়ো বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নক্কারজনক ঘটনাটি একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই অতিরিক্ত ভিড়ভাট্টায় ঠাসা রেলের কামরায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মানসিকতা নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ঠিক কী দেখা গিয়েছে ওই ভাইরাল ভিডিয়োতে?
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ @Khurpenchinfra নামের একটি হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দূরপাল্লার একটি ট্রেনের কামরাটি যাত্রীদের ভিড়ে একেবারে গিজগিজ করছে। বার্থ থেকে শুরু করে মেঝেও লোকে লোকারণ্য। এই চরম গাদাগাদির মধ্যেই এক ব্যক্তিকে হঠাৎ উঠে দাঁড়াতে এবং বগির মেঝেই প্রকাশ্যেই প্রস্রাব করতে দেখা যায়। আশেপাশের অন্য বেশ কয়েকজন যাত্রী পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখতে পেলেও প্রথমটায় যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

পোস্টে দাবি করা হয়েছে, যখন উপস্থিত সহযাত্রীরা ওই ব্যক্তিকে এমন অসভ্য আচরণ করতে বাধা দেন এবং শৌচাগার ব্যবহারের পরামর্শ দেন, তখন তিনি উল্টে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গেই তুমুল বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কয়েকজন যাত্রী বাধ্য হয়ে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন এবং তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন। ট্রেনের দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার কথা বলেন।

নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ও রেলের প্রতিক্রিয়া
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা একে একে নানা মন্তব্য করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “মানুষ কেন শুধু দাঁড়িয়ে ভিডিয়ো করছিলেন? তাঁকে তো তখনই উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার ছিল; আমরাই তো এ ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছি।” আবার অন্য এক ব্যবহারকারীর দাবি, বিমানের মতো রেলপথেও এ ধরনের অসামাজিক যাত্রীদের আজীবনের জন্য ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত।

ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ‘রেলওয়ে সেবা’ (Railway Seva)-র পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রেনের নম্বর, পিএনআর (PNR) নম্বর এবং ঘটনার সঠিক সময় ও তারিখ জানালে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর তদন্ত শুরু করা হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের দ্রুত সাহায্যের জন্য ‘রেলমদদ’ (RailMadad) পোর্টালের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরায় এমন অসভ্য ও কুরুচিকর আচরণ রোখার জন্য রেল প্রশাসনের আরও কতখানি কড়া হওয়া প্রয়োজন, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *