‘আমাকে যে কোনো দিন মেরে ফেলবে, ডেডবডির ছবি তুলবেন!’ রোমহর্ষক হামলায় খাস কলকাতায় চরম আতঙ্ক কুণাল ঘোষের

শনিবারের পর রবিবার—মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে খাস কলকাতায় পরপর ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়লেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিরাপত্তার অভাব এবং জীবনের চরম ঝুঁকির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলেও, মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ।
ঠিক কী ঘটেছিল রবিবার?
শনিবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার সখেরবাজারে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়িতে লোহার রড দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ডিম ছোড়া হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের খাস তাঁর নিজ বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটায় জোড়া হামলার শিকার হন তিনি। এ দিন ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি চা চক্রের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ ওঠে, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই ১০-২০টি বাইক তাঁর গাড়িকে অনুসরণ করছিল। এরপর ফুলবাগানে পৌঁছতেই গাড়িটি ঘিরে লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর দিকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র বা রিভলভার তাক করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাণে বাঁচতে কোনোমতে নারকেলডাঙা থানায় আশ্রয় নেন তিনি।
হাইকোর্টে কী জানাল শাসকশিবির?
এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরই ‘জীবনের উপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে’ এই মর্মে দ্রুত মামলা দায়ের করার আবেদন জানান কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। অবিলম্বে আজ বা কালই যাতে মামলার শুনানি হয়, সেই অনুরোধ রাখা হয় আদালতের কাছে। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এরকম অনেক বিধায়ক, সাংসদ মামলা করছেন। নিয়ম মেনেই মামলা করুন, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় শুনানির জন্য আসবে। কোনো দ্রুত শুনানি হবে না।”
‘বিজেপি আমাকে খুন করতে চায়’—বোমা ফাটালেন কুণাল
পুরো ঘটনাটি নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। বাড়ি থেকেই আমাকে ফলো করা হচ্ছিল। আমাকে যেকোনো দিন মেরে ফেলা হবে। আপনারা হয়তো একদিন আমার গুলিবিদ্ধ বা মৃতদেহের ছবি তুলবেন! বাঁচতে বাধ্য হয়ে থানায় ঢুকেছি। হাতুড়ি দিয়ে আমার গাড়ির কাচ ভাঙা হচ্ছিল, রিভলভার তাক করা হয়েছিল। কোন পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তারক্ষীকে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র বের করতে হয়, তা ভেবে দেখুন। বিজেপি আমাকে খুন করতে চাইছে। এ নিয়ে চারবার এমন ঘটনা ঘটল। এর নেপথ্যে বিজেপির পাশাপাশি পুলিশেরও একাংশের মদত রয়েছে।” একের পর এক এই প্রাণঘাতী হামলায় রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।