“সকালেই ডুবে গেল ৬ লক্ষ কোটি টাকা”-বড় পতন সেনসেক্সের, মাথায় হাত ইনভেস্টরদের

সপ্তাহের শুরুর দিনেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় রক্তক্ষরণ। হু হু করে পড়তে শুরু করেছে প্রধান সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। এদিন লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স প্রায় ৯০০ পয়েন্ট এবং নিফটি ২৩,০০০ অঙ্কেরও অনেক নীচে নেমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি, আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ারে পতন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফের শেয়ার বিক্রির হিড়িক—এই তিন প্রধান কারণেই বাজার কার্যত লালে লাল।
চোখের পলকে ধূলিসাৎ লক্ষ কোটি টাকা
হিসাব বলছে, এদিন দিনের শুরুতে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) মোট বাজার মূলধন (ক্যাপিটালাইজেশন) ছিল প্রায় ৪৮৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু সকালের দিকেই তা কমে নেমে আসে প্রায় ৪৭৭.০৮ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে প্রায় ৬.১৭ লক্ষ কোটি টাকা!
এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ সেনসেক্স ৮৮৩ পয়েন্ট খসে দাঁড়িয়েছিল ৭৩,০১৫.২২ অঙ্কে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ কমে যায় ২৭২.৪৫ পয়েন্ট, যা নেমে দাঁড়ায় ২২,৮৬৪.৮০-তে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক ও ব্যাপক পতনে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
বাজারের এই বেহাল দশার নেপথ্যে রয়েছে ৩টি প্রধান কারণ:
১. ১০৬ ডলার পার করল অপরিশোধিত তেলের দাম: ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬.৬১ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ১.৪৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধের ফলেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম চড়ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশীয় শেয়ার বাজারে।
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ড. ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারের ব্রেন্ট ক্রুড এবং ৫.২ শতাংশের মার্কিন ১০ বছরের বন্ড ইয়িল্ড বাজারের গতি রোধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক ধাক্কা: সোমবারে লেনদেনে আর্থিক খাতের শেয়ারগুলি মারাত্মক মার খেয়েছে। গত সপ্তাহের দুর্বল প্রবণতার রেশ ধরেই এদিন এই সেক্টরের ওপর বিক্রির প্রবল চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
-
বাজাজ ফাইন্যান্সের (Bajaj Finance) শেয়ার পড়েছে ১.১৫%
-
কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক (Kotak Mahindra Bank) কমেছে ১.৩৮%
-
এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank) নেমেছে ১.৩৭%
-
বাজাজ ফিনসার্ভ (Bajaj Finserv) ও আইসিআইসিআই ব্যাংক (ICICI Bank) যথাক্রমে ১.১৯% এবং ০.৯৩% পড়েছে।
এছাড়াও, নিফটি ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং প্রাইভেট ব্যাংক ইনডেক্সেও বড় পতন দেখা গিয়েছে। ইন্সুরেন্স রেগুলেটরি অথরিটির (IRDAI) প্রস্তাবিত বিমা কমিশন কাঠামোর পরিবর্তনের পর থেকেই আর্থিক খাতের শেয়ারে এই ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয়েছে।
৩. ফের হাত গুটিয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা: চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPIs) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। চলতি বছরে তাঁদের মোট বিক্রির পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জুলাই ও অগাস্ট মাসে এফপিআইগুলি বাজারে লগ্নির পরিমাণ বাড়ালেও সেপ্টেম্বর মাস শুরু হতেই তারা ফের তাঞ্চলের শেয়ার বিক্রি শুরু করেছে।
এর জেরে নিফটি স্মলক্যাপ ১০০, মিডক্যাপ ১০০ এবং মিডক্যাপ ৫০-এর মতো সূচকগুলিতেও ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি মেটাল, রিয়েলটি, পিএসইউ ব্যাংক, এবং এফএমসিজি সহ বিভিন্ন সেক্টরের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।