একই বিরিয়ানিতে ১৩০ টাকা বেশি! ফুড ডেলিভারি অ্যাপের এই কারসাজি জানলে আপনিও চমকে উঠবেন

অনলাইনে খাবার অর্ডার করার অভ্যাস কি আপনার রয়েছে? যদি থাকে, তবে একটি বিষয় হয়তো আপনিও নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। একই রেস্তোরাঁর একই বিরিয়ানি বা পিজ্জার দাম কখনও কখনও বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপে একেবারে আলাদা দেখায়। অনেক সময় এই দামের পার্থক্য এতটাই বেশি হয় যে সাধারণ ক্রেতারা অবাক হয়ে যান। ঠিক যেমন সম্প্রতি এক রেডিট ব্যবহারকারীর সঙ্গে ঘটেছে, যিনি দেখেছেন অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে একই বিরিয়ানি অর্ডার করতে তাঁকে প্রায় ১৩০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে! আর এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
কেন আলাদা হয় চূড়ান্ত বিলের অঙ্ক?
প্রকৃতপক্ষে, ফুড ডেলিভারি অ্যাপে স্ক্রিনে যে খাবারের দাম দেখানো হয়, সেটি শুধুমাত্র ওই খাবারের আসল দাম নয়। একটি খাবারের প্লেট আপনার ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে নেপথ্যে কাজ করে একাধিক লুকানো খরচ। রেস্তোরাঁর ধার্য করা খাবারের দাম ছাড়াও ডেলিভারি চার্জ, প্যাকেজিং বা হ্যান্ডলিং ফি, প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব সার্ভিস চার্জ, ট্যাক্স এবং ডিসকাউন্টের মতো নানা বিষয় চূড়ান্ত বিলকে নিয়ন্ত্রণ করে।
জোমাটো এবং সুইগির মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়মাবলী অনুযায়ী, অ্যাপে প্রদর্শিত মেনু এবং খাবারের মূল্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ অংশীদার বা বিক্রেতার দ্বারাই নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে রেস্তোরাঁর নিজস্ব প্যাকেজিং বা হ্যান্ডলিং চার্জও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া গ্রাহকভেদে বা এলাকাভেদে ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেও চূড়ান্ত অর্ডারের মূল্যে তারতম্য ঘটতে পারে।
একটি সহজ উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক:
ধরুন, কোনো একটি রেস্তোরাঁয় একটি চিকেন বিরিয়ানির দাম রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। এবার আপনি যদি দুটি আলাদা অ্যাপে সেটি দেখেন, তবে দেখতে পাবেন একটি অ্যাপ আপনাকে ১০০ টাকার লোভনীয় কুপন দিচ্ছে, আর অন্য অ্যাপটি কোনো ছাড়ই দিচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই জায়গায় আপনার মোট পরিশোধের পরিমাণ সম্পূর্ণ আলাদা হবে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয় দূরত্ব-ভিত্তিক ডেলিভারি ফি এবং অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম চার্জ।
প্রতিযোগিতা কমিশন অফ ইন্ডিয়া (CCI)-এর বিভিন্ন নির্দেশিকা ও তথ্যেও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রেস্তোরাঁ পার্টনারদের দেওয়া নানা ডিসকাউন্ট ও স্কিমের অসঙ্গতির কথা উঠে এসেছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র মেনুতে দেখানো খাবারের দাম দেখে খাবার অর্ডার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পরের বার অনলাইনে অর্ডার করার আগে একাধিক অ্যাপে দাম যাচাই করে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় বাঁচোয়া।