বিধানসভা ভোটের আগে মায়াবতীর মেগা মাস্টারস্ট্রোক! বিএসপি ভাঙলেন নাকি তৈরি করলেন নতুন ইতিহাস?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে এবার এক বড় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিলেন বহুজন সমাজ পার্টি (BSP) সুপ্রিমো মায়াবতী। দলের ভিত আরও মজবুত করতে গোটা বিএসপি সংগঠনকে এক ধাক্কায় তিনটি আলাদা সেক্টরে বিভক্ত করেছেন তিনি। এর মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের সরাসরি দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন বিএসপি সুপ্রিমো।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে একটি দীর্ঘ টুইটবার্তায় এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেন মায়াবতী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মহারাষ্ট্রসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের খরা-পীড়িত ও দুর্যোগকবলিত কৃষকদের যেন শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতি না দিয়ে দ্রুত প্রকৃত ত্রাণ ও সাহায্য প্রদান করা হয়। আর এই সংকটের মধ্যেই দলকে আরও সুসংহত করতে নতুন এই বিন্যাস আনা হয়েছে।

নতুন সাংগঠনিক বিন্যাস ও দায়িত্ব বণ্টন:

সেক্টর ১: এই সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোট ১০টি রাজ্যকে। এই অঞ্চলের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ রামজি গৌতম এবং সুরেশ রাওয়ের কাঁধে।

সেক্টর ২: এই বিভাগে রাখা হয়েছে ৯টি রাজ্যকে। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ রাজারাম এবং প্রাক্তন বিধায়ক আত্তার সিং যাদবকে।

সেক্টর ৩: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরটি গঠিত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্য নিয়ে। লখনউস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরাসরি এই দুই রাজ্যের পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন খোদ মায়াবতী।

পাশাপাশি, দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলিতে দলের ভূমিকা কেমন হবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিএসপি প্রধান। সংশ্লিষ্ট সেক্টরের ইনচার্জদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতিবৃষ্টি ও ঝড়ে দেশের যেখানেই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, দলের কর্মীরা যেন নিজেদের সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়ান। তবে এই সহায়তার নামে যাতে কোনো ধরনের অর্থ সংগ্রহ করা না হয় এবং কেউ যাতে এর সুযোগ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজন সাপেক্ষে দলের জাতীয় ইনচার্জ ঈশান আনন্দকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলিতে পরিদর্শনের জন্য পাঠানোর কথাও ভাবা হয়েছে। মায়াবতী নিজে ব্যক্তিগতভাবে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনে তিনিও মাঠে নামতে পারেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নিজের চেনা ছন্দে ফিরে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএসপি সুপ্রিমো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *