‘জঙ্গিদের ঘরে ঢুকে মারব, আগের ভারত আর নেই!’ মন কি বাতে সোনাঝরা হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান আরও একবার অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে দেশের সুরক্ষা, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশকপূর্তি, জনগণনা থেকে শুরু করে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। সন্ত্রাস দমনে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ দিন ভাষণের শুরুতেই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৬ সালের ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা যেভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, তা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। অতীতের ২০০৮ সালের ধারাবাহিক বোমা হামলা বা মুম্বই হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের মাটিতে বোমা বিস্ফোরণ অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং বারবার পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে শুধু হুঁশিয়ারিই দেওয়া হতো। কিন্তু আজকের ভারত সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান ভারত সন্ত্রাসবাদকে এক বিন্দুও সহ্য করে না এবং দেশ এখন ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি নিয়ে চলছে। বালাকোট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক প্রতিটি পদক্ষেপে সেই কঠোর অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে।
সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে দেশের চলমান জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জনগণনার প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৩২ কোটিরও বেশি পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের চামোলির মানা গ্রাম—যাকে দেশের প্রথম গ্রাম বলা হয়—সেখান থেকেই এই জনগণনা শুরু হয়েছে। এটিকে একটি পবিত্র জাতীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া তাঁর আহ্বানের কথা ফের স্মরণ করান তিনি।
পাশাপাশি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রয়াত অশোক সিংঘলকে তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মোদী। তিনি বলেন, সমাজে থেকেও এক সন্ন্যাসীর মতো জীবন কাটিয়ে নিজের সমস্তটা সংস্কৃতি ও দেশের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন অশোক সিংঘল। রাম জন্মভূমি আন্দোলনে তিনি যে অবিস্মরণীয় দিকনির্দেশনা ও শক্তি জুগিয়েছিলেন, আজ তারই ফলস্বরূপ অযোধ্যাধামে এই ভব্য ও বিশাল রাম মন্দির মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ইতিহাসের পাতা উল্টে এ দিন গুজরাটের মোধেরা সূর্য মন্দিরের প্রসঙ্গও তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে গজনী যখন সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে ধ্বংস করে, ঠিক সেই বছরই আক্রান্ত হয়েছিল মোধেরার বিখ্যাত সূর্য মন্দিরও। রাজা ভীমদেব কর্তৃক নির্মিত এই মন্দিরের ধ্বংসের এবার ১০০০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মোধেরা গ্রাম আজ শুধু তার প্রাচীন ঐতিহ্যের জন্যই নয়, বরং দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘সৌর গ্রাম’ হিসেবে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে।