২০২৭-এর আগে উত্তরপ্রদেশে মেগা মাস্টারস্ট্রোক অখিলেশের! দলিত ভোট টানতে সমাজবাদী পার্টির কোন ছকে কাঁপছে রাজনীতি?

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজ্যের মোট ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮৬টি সংরক্ষিত আসনই আগামী দিনে ক্ষমতার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে, যার মধ্যে ৮৪টি তফসিলি জাতি এবং ২টি তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। এই বিশাল ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের মুঠোয় পুড়তে এখন থেকেই সমাজবাদী পার্টি (SP) থেকে শুরু করে শাসকদল বিজেপি—সবাই সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দলিত ভোটব্যাঙ্কের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০২৭ সালের নির্বাচনে অন্তত ১০০ জন তফসিলি জাতি (SC) এবং ৫ জন তফসিলি উপজাতি (ST) প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এসপির। এমনকি দলের সাধারণ আসনগুলিতেও দলিত প্রার্থী দিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির ছক কষছেন অখিলেশ।
পিডিএ (PDA) ফর্মুলা ও লোকসভার ফলাফল:
অখিলেশ যাদবের মূল লক্ষ্য হলো দলিত, অনগ্রসর এবং সংখ্যালঘুদের এক করে ‘পিডিএ’ (PDA)-র বৃহত্তর সামাজিক সমীকরণ তৈরি করা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এই সমীকরণকে অনেকটাই উসকে দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ১৭টি সংরক্ষিত লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল আটটিতে, আর সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল সাতটি আসন। অর্থাৎ, সংরক্ষিত আসনে লড়াইয়ের ময়দানে বিজেপি এবং বিরোধীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। একেই ২০২৭-এর জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে এসপি।
তবে পিছিয়ে নেই শাসকদল বিজেপিও। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির এই সংরক্ষিত আসনগুলিতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছিল। ২০১৭ সালে বিজেপি একাই প্রায় ৭০টি সংরক্ষিত আসনে জয়ী হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালের বিধানসভাতেও বিজেপি ও তার শরিকরা ৬৫টি আসনে জয়লাভ করে শক্ত ঘাঁটি ধরে রেখেছিল, যেখানে সমাজবাদী পার্টি এবং তাদের জোট পেয়েছিল মোটে ২৭টি আসন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কিছু জায়গায় ধাক্কা খাওয়ার পর, ২০২৭ সালে সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই এখন বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিএসপি ফ্যাক্টর এবং ৮৬ আসনের অঙ্ক:
এই পুরো লড়াইয়ে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (BSP)। ২০২৪ সালের লোকালয় ভোটে বিএসপি কোনো আসন না পেলেও, দলিত সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের ওপর তাদের প্রভাব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
উত্তরপ্রদেশে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার হলো ২০২টি আসন। সেই হিসেবে এই ৮৬টি সংরক্ষিত আসন মোট বিধানসভা আসনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের লড়াই কেবল আসন দখলের নয়, আসল লড়াই হবে দলিত ভোট কার ঝুলিতে কতটা যাচ্ছে এবং কোন দল সেই ভোটকে জয়ে রূপান্তরিত করতে পারছে, তার ওপর।