জন্মভিটে কোদাল দিয়ে ভেঙে ফেললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী! সিংহস্থ মহাকুম্ভের মেগা প্রকল্পে মোহন যাদবের নজিরবিহীন আত্মত্যাগ

ব্যক্তিগত আবেগ বা স্মৃতির চেয়ে জনকল্যাণ ও শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নকেই সবসময় সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া উচিত—কথাটা অনেকেই বলেন, কিন্তু হাতে-কলমে তা করে দেখিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব। ২০২৮ সালের সিংহস্থ মহাকুম্ভ উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে উজ্জয়িন শহরের রাস্তা চওড়া করার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রশাসন। আর সেই প্রকল্পের নির্ধারিত সীমার মধ্যে পড়ে যাওয়ায়, নিজের হাতে কোদাল ধরে পৈতৃক বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেললেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
শহরের জনস্বার্থ ও আগামী দিনে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পৈতৃক বাড়ি ভাঙার সময় আবেগঘন কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, “যে বাড়িতে জন্ম হয়েছে, যেখানে বড় হয়েছি এবং খেলাধুলা করেছি—সেই জন্মভিটে ভাঙা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে সিংহস্থ মহাকুম্ভ এবং উজ্জয়িনের উন্নয়নের স্বার্থে যদি এই ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তবে তা করতেই হবে। আমরা সবাই মিলেই এই মহাযজ্ঞে শামিল হয়েছি। উজ্জয়িনের সাধারণ মানুষ যেভাবে উন্নয়নের স্বার্থে স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, তা গোটা দেশের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
উজ্জয়িনে উন্নয়নের মেগা প্রকল্প:
আসন্ন সিংহস্থ উৎসবের সময় ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ঢল নামবে উজ্জয়িনে। মাত্র ৮ লক্ষ জনসংখ্যার এই ঐতিহাসিক শহরে উৎসবের দিনগুলিতে প্রায় ৪০ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে এবং যান চলাচল মসৃণ করতে শহরের রাস্তাঘাট চওড়া করার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উজ্জয়িনের খাজুর ওয়ালি মসজিদ থেকে আবদলপুরা, জিওয়াজিগঞ্জ থানা হয়ে গণেশ চক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়কটি ১৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বরাদ্দ প্রায় ৯.৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এই মেগা প্রকল্পের জেরে বহু মানুষের মতো খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার এবং তাঁর বোন তথা উজ্জয়িন পৌর কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন কলাবতী যাদবের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব বা বিশেষ সুবিধার আশ্রয় না নিয়ে সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের মতোই প্রশাসনিক নিয়ম মেনে নিজের পৈতৃক বাড়ির অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর আদর্শেই পথচলা:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুশাসন ও নীতি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ যাদব জানান, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে সর্বদা নিয়মকানুন এবং জনস্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অতীতে সায়েন্স কলেজ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থকে রক্ষা করার কথাই মাথায় রেখেছেন। পাশাপাশি, উজ্জয়িনের সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্য ও সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকার কোনো রকম বৈষম্য ছাড়াই উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করছে। পৈতৃক বাড়ির নস্টালজিয়াকে দূরে সরিয়ে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর এই জনমুখী আত্মত্যাগ এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।