‘কেরালায় ভালো, বাংলায় খারাপ এই দ্বিচারিতা চলবে না!’-মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

রবিবার সকালে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝড়ো সাংবাদিক বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি ‘SIR’ এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এ দিন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন যে, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত একাই কোনো একক ব্যক্তির নয়। শনিবার নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা বৈঠকের ছবি তুলে ধরে তিনি জানান, তিন কমিশনারের সম্মতিতেই এই দেশব্যাপী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেরলে এক নিয়ম আর বাংলায় অন্য নিয়ম—বিরোধীদের এই দ্বিচারিতার নীতি নিয়েই এ দিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে রাজনৈতিক শোরগোল উঠেছে, তার দায় পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই নাম বাদের পেছনে বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনের কোনো হাত নেই। এই প্রসঙ্গে অতীতে তৃণমূলের আইনি লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের মামলার জেরে পশ্চিমবঙ্গে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর এই ২৭ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিলেন খোদ সেই জুডিশিয়াল অফিসাররাই।’ সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে আদালতের নির্দেশেই গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জনাদেশ অস্বীকার ও বাম-তৃণমূল আঁতাত নিয়ে তোপ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও বিরোধীরা জনাদেশ মানতে চাইছে না বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, SIR এবং নির্বাচন কমিশনের পুরো প্রক্রিয়াকে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, তা আদতে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আস্থাকে নষ্ট করার গভীর চক্রান্ত। এর পাশাপাশি, বামেদের সঙ্গে তৃণমূলের নতুন রাজনৈতিক সখ্যতা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। যে সিপিএমের ৩৪ বছরের নৃশংস অত্যাচার ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে একসময় তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল, আজ ক্ষমতার মোহে সেই সিপিএমের সঙ্গেই হাত মেলাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছে না ঘাসফুল শিবির। কেরল ও বাংলার এই রাজনৈতিক মেরুকরণকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘কেরালায় SIR ভালো, কারণ সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ অন্যরকম। আর পশ্চিমবঙ্গে SIR খারাপ— এই দ্বিচারিতা মানুষ বুঝতে পারছে।’

শ্রীরামপুরের সভা ও মমতার জনভিত্তি নিয়ে কটাক্ষ

শনিবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকে নিয়েও এ দিন কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এবং ছ’বারের সাংসদের এদিনের সেই সমাবেশে সাধারণ মানুষের ভিড় বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, শ্রীরামপুরের সভায় মোটে দেড়শ লোক হয়েছিল, বিপরীতে পুলিশ ছিল ১৭০ জন। মিডিয়া ও পুলিশ সব মিলিয়ে মেরেকেটে পাঁচশো লোক উপস্থিত ছিল। নাম ও প্রতীক বদলে যাওয়া নতুন দলের এই ভগ্নদশা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, রাজ্যের রাজনীতিতে তাদের জনভিত্তি আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *