“সেপ্টেম্বর শেষেই চরম সঙ্কট!” সোম থেকে টানা ৩ দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটে পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়?

সপ্তাহের পাঁচ দিন কাজের জোরালো দাবিতে আগামী সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে তিন দিনের এক বিরাট ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের ইউনিয়ন। ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই টানা তিন দিনের ধর্মঘটের জেরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, কর্মচারী ইউনিয়নগুলির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের এই ন্যায্য দাবি অবিলম্বে না মানা হলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে আরও বৃহত্তর তথা অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশজোড়া ধর্মঘটের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’ (UFBU)-এর যৌথ ব্যানারে এই সর্বাত্মক ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। আন্দোলনকারী কর্মীদের মূল দাবি, গত বছর মার্চ মাসে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সময়ই সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য পেয়েছিল। এমনকি এর বিনিময়ে তাঁরা প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট করে বেশি কাজ করতেও সম্পূর্ণ সম্মত ছিলেন। তবে অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
রবিবার ছুটির দিনেও ব্যাঙ্ক খোলার কারণ
ছুটির দিন রবিবারের ঠিক পরেই এই ধর্মঘট শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বয়স্ক নাগরিক এবং যারা অনলাইনে অভ্যস্ত না হয়ে সরাসরি ব্যাঙ্কের শাখার ওপর নির্ভরশীল, তারা যাতে চরম সমস্যার মুখে না পড়েন, সেই কথা মাথায় রেখেই আজ রবিবার সমস্ত সরকারি ও গ্রামীণ ব্যাঙ্ক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-ও সরকারি এই বিশেষ সিদ্ধান্তে পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। তা সত্ত্বেও টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার ফলে লেনদেনে যে বড় ধাক্কা লাগবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ধর্মঘটের আগেই সমস্ত এটিএমগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ টাকা মজুত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মাসের শেষ ও ক্লোজিংয়ের চাপ
আগামী ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর একই সঙ্গে মাসের শেষ এবং অর্ধবর্ষান্ত বা হাফ-ইয়ার্লি ক্লোজিংয়ের সময় হওয়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ওপর এমনিতেই অতিরিক্ত চাপ থাকে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের কথা ভেবে কেন্দ্রের কন্ট্রোলার জেনারেল অফ অ্যাকাউন্টস (CGA) তাঁদের বেতন এবং পেনশন মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিটিয়ে ফেলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ও অন্যান্য ব্যাঙ্কের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ গ্রাহক এবং কর্মচারীদের বেতন ও জরুরি লেনদেনে এই ধর্মঘটের জেরে বড়সড় প্রভাব পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাঙ্ক কর্মচারী সংগঠনগুলির একযোগে স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান দিনে ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বা ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ বজায় রাখতেই তাঁদের এই পাঁচ দিন কাজ চালুর দীর্ঘদিনের দাবি। সময়মতো এই দাবি পূরণ না হলে আগামী অক্টোবরে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে নামবে ইউনিয়নগুলি।