“অনলাইন পেমেন্ট আর ফ্রি নয়!” ২০০০০ টাকার বেশি লেনদেনে বড় ধাক্কা, আমজনতার পকেটে কি টান পড়বে?

অনলাইন লেনদেনের দিন কি তবে ফুরিয়ে আসছে? সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তোলার ক্ষেত্রে ইউপিআই বা অনলাইন পেমেন্টের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ছোট দোকান থেকে বড় শপিং মল—সব জায়গাতেই এখন নগদ টাকার বদলে কিউআর কোড স্ক্যান করেই চলে লেনদেন। কিন্তু এবার এই ফ্রি ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাসে বড়সড় বদল আসার পালা। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এক ধাক্কায় বদলাতে চলেছে অনলাইন লেনদেনের পুরো নিয়ম।

আসন্ন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২০০০ টাকার বেশি অনলাইনে লেনদেন করলেই মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই চার্জের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। নির্দিষ্ট নিয়মে ২০০০ টাকার বেশি লেনদেনের উপরে মাত্র ০.০৪ শতাংশ হারে এমডিআর লাগু করা হবে।

এই নতুন চার্জ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, ধরুন কারোর কেনাকাটায় যদি মোট ৮০০০ টাকার বিল আসে এবং তিনি যদি এমডিআর এড়ানোর জন্য ২০০০ টাকা করে চার ধাপে পেমেন্ট করার কৌশল নেন, তবে কি সত্যি বিক্রেতা এই অতিরিক্ত চার্জ থেকে রেহাই পাবেন?

এমডিআর আসলে কাদের জন্য প্রযোজ্য?
এই বিষয়ে প্রথমেই যে বিষয়টি স্পষ্ট করে রাখা দরকার, তা হলো এমডিআর শুধুমাত্র পার্সন টু মার্চেন্ট বা পিটুএম (P2M) ট্রানজাকশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর অর্থ হলো, আপনি যদি সাধারণ ইউপিআই ব্যবহার করে আপনার কোনো বন্ধু বা আত্মীয়কে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকাও পাঠান, তবে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অর্থাৎ পার্সন টু পার্সন (P2P) হিসেবেই গণ্য হবে। এর জন্য কোনো এক্সট্রা চার্জ দিতে হবে না। কিন্তু কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা করার সময় যদি বিলের পরিমাণ ২০০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তবেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই এমডিআর চার্জ গ্রাহককে দিতে হয় না, এই আর্থিক বোঝা সম্পূর্ণভাবে বহন করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা মার্চেন্ট।

৮০০০ টাকার বিল চার ভাগে দেওয়া কি আদৌ সম্ভব?
টুকরো করে টাকা দিয়ে এমডিআর বাঁচানোর এই ফন্দি আদতে কতটা কার্যকর? এর সোজা সাপটা উত্তর হলো—না। এর পেছনে রয়েছে কড়া ব্যাংকিং প্রোটোকল। ব্যাংকগুলি সবসময় প্রতিটি গ্রাহকের ডিজিটাল লেনদেনের প্যাটার্নের ওপর কড়া নজর রাখে।

ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার (NPCI) নির্দেশিকা অনুযায়ী পেমেন্টের ক্ষেত্রে দৈনিক কোনো নির্দিষ্ট কড়া সীমা বেঁধে দেওয়া না হলেও, ব্যাংকের অটোমেটেড সিকিউরিটি সিস্টেম প্রতারণা রুখতে সর্বদা সক্রিয় থাকে। ফলে কোনো গ্রাহক যদি একই ব্যবসায়ীকে বারবার নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা টুকরো টুকরো করে পাঠাতে থাকেন, তবে তা ব্যাংকিং সিস্টেমে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

এমনটা ঘটলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ট্রানজাকশনের অতিরিক্ত যাচাইকরণ শুরু করতে পারে। যার ফলে সাময়িকভাবে আপনার ইউপিআই সার্ভিস ব্লক হয়ে যাওয়া কিংবা লেনদেন সীমিত হয়ে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব দৈনিক ট্রানজাকশন লিমিট বা দৈনিক লেনদেনের নির্দিষ্ট সীমা থাকে। বারবার একই অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে গেলে সেই লিমিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, যার জেরে দিনের অন্য জরুরি সময়ে আর অনলাইন পেমেন্ট করা সম্ভব হয় না। তাই নতুন এই নিয়মের গেরোয় পড়ার আগে ট্রানজাকশনের পুরনো অভ্যাস বদলানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *