“টানা ৩ দিন বন্ধ ব্যাঙ্ক!” রবিবারেও উপচে পড়া ভিড়, চরম ভোগান্তির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ

রবিবারের ছুটির চেনা মেজাজ এ দিন গায়েব। ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা রয়েছে ব্যাঙ্কগুলি এবং সেখানে সাধারণ গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। কিন্তু হঠাৎ কেন ছুটির দিনে ব্যাঙ্ক খোলার নির্দেশ দিল প্রশাসন? এর নেপথ্যে রয়েছে আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী টানা তিনদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগের পরিবেশ।

কেন এই ধর্মঘট?
মূলত সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস এবং শনি ও রবিবার পূর্ণ ছুটির দাবি জানিয়েছে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন’। এই দীর্ঘ দাবির জেরেই সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা তিনদিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের এই দিনগুলিতে চেক জমা দেওয়া, পাসবুক আপডেট করা কিংবা টাকা তোলার মতো জরুরি দৈনন্দিন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। যদিও অনলাইন ব্যাঙ্কিং এবং এটিএম পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার কথা বলা হয়েছে।

রবিবারেও ব্যাঙ্ক খোলার কারণ কী?
চলতি মাসের শুরুতেই একদিনের ধর্মঘটের মুখোমুখি হয়েছিল ব্যাঙ্কিং খাত। তবে সেবার পরিষেবায় বড় ধরনের ব্যাঘাত না ঘটলেও এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। চলতি মাসের চতুর্থ শনিবার এমনিতেই ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল। এর পর আজ রবিবারও যদি ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকত, তবে একটানা প্রায় পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের দরজা খোলার কোনো সুযোগ থাকত না। সাধারণ মানুষের এই বিশাল ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই আজ, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে ব্যাঙ্কগুলি খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কী বলছেন গ্রাহকরা?
এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক খুললেও পরের দিন শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর কারণে ফের ছুটির কবলে পড়বে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। ফলে বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কে অস্বাভাবিক ভিড় জমার আশঙ্কায় অনেকেই রবিবারের সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন। সকাল ১০টায় ব্যাঙ্ক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকদের লম্বা লাইন দেখা যায়। ছুটির দিনেও ব্যাঙ্ক খোলা পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে মাসের এই শেষ সময়ে বেতন বা পেনশনভোগীদের টাকা তোলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিককালে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মান কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অনেক গ্রাহক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *