SIR-নিয়ে মতভেদের জল্পনায় জল! ৩ কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই কি দেশজুড়ে নির্দেশ?

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হতেই শুরু হয় জোর চর্চা। এই পরিস্থিতির মাঝেই শনিবার একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশনের বৈঠক শেষে নিজেদের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের দাবি, দেশজুড়ে এসআইআর চালুর সিদ্ধান্তে তিন কমিশনারের প্রত্যেকেই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন।
কী জানাল নির্বাচন কমিশন?
কমিশনের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে এসআইআর-সহ যতগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ কমিশনের অনুমোদন ছিল। এমনকি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, সেটিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশী—এই তিন জনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই কার্যকর হয়েছিল। প্রসঙ্গত, প্রথমে বিহারে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা সম্প্রসারিত করা হয়।
কমিশনের আরও জোরালো দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের রায়েও এই এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ১২টি রাজ্য এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য এসআইআর-এর সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই তিন কমিশনারের সম্পূর্ণ সম্মতি ছিল।
ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা চিঠি নিয়ে বড় ব্যাখ্যা
সম্প্রতি দুই নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা একটি চিঠি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। শনিবার সেই চিঠি নিয়েও রাখঢাক না করে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ওই চিঠিগুলি কমিশনের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা আইটি (IT) বিভাগের কোনো নীতি সংক্রান্ত ছিল না। বরং নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত এক নির্দিষ্ট আধিকারিকের কাজকর্ম ও আচরণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই ওই চিঠিগুলি লেখা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, ওই আধিকারিক দপ্তর পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কাজের বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, দুই কমিশনারের আপত্তির পর তা আর কার্যকর করা হয়নি।
শনিবারের বৈঠকে আর কী কী সিদ্ধান্ত হলো?
বিতর্ক এড়াতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শনিবারের বৈঠকে বেশ কিছু নতুন নিয়ম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ঠিক হয়েছে যে, আগামী দিনে প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগে থেকেই সমস্ত কমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বৈঠকের আলোচনা শেষ হওয়ার পর তার যথাযথ লিখিত নথিপত্র বা কার্যবিবরণীও তৈরি করা হবে।
পাশাপাশি এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কমিশনাররা নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের যে নির্দেশ দেবেন, তা ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্টভাবে ও যথাযথ নিয়ম মেনে পালন করতে হবে। সবশেষে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের অন্দরে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তা আলোচনারই স্বাভাবিক অংশ। তবে সমস্ত ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনি ও নির্ধারিত গাইডলাইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দৃঢ় দাবি করা হয়েছে।