বাংলায় ‘মেগা’ শিল্পায়নের হাঁক! নিউটাউনে বড় প্রকল্পের শুভসূচনা, কী ঘটছে আদানি-শুভেন্দু বৈঠকে?

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে তৈরি হলো এক নতুন মাইলফলক। বৃহস্পতিবার রাজ্য সফরে এসে দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় কাটালেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি। সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়া থেকে শুরু করে নিউটাউনে বিশ্বমানের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—সব মিলিয়ে বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অন্দরে দিনভর ছিল চরম তৎপরতা।
ভোরে সস্ত্রীক কালীঘাট দর্শন বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী প্রীতি আদানিকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান গৌতম আদানি। সেখানে নিষ্ঠা ও ভক্তিসহকারে পুজো দেন তিনি। মন্দির থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আদানি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বাংলায় আসার এবং মা কালীকে দর্শন করার ইচ্ছে ছিল। আজ সেই শুভ সুযোগ মেলায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
নিউটাউনে বিশ্বমানের হাসপাতালের শিলান্যাস কালীঘাট দর্শন শেষেই আদানি গোষ্ঠীর প্রধান পৌঁছে যান নিউটাউনে। সেখানে আদানি গোষ্ঠীর সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি হতে চলা একটি অত্যাধুনিক ২০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের শিলান্যাস করা হয়। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জোরদার করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বমানের উন্নত চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক হাসপাতালের শিলান্যাস কর্মসূচি শেষ করার পর গৌতম আদানি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। রাজ্য প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগ, বন্দর ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন শিল্প স্থাপন এবং সার্বিক কর্মসংস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং শিল্পায়নের নতুন চাকা ঘোরাতে আদানি গোষ্ঠীর এই সফর এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।