হাইকোর্টের কড়া চাবুক! লাইসেন্সহীন বেচাকেনা বন্ধে গ্যালিফ স্ট্রিটে বিশাল পুলিশি অভিযান, বন্ধ পশুপাখির হাট

রবিবার মানেই উত্তর কলকাতার পশুপাখি, মাছ ও গাছপ্রেমীদের প্রিয় গন্তব্য গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট। কিন্তু চলতি সপ্তাহের রবিবারের সকালে চিত্রটা ছিল একদম ভিন্ন। কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবৈধ ব্যবসা রুখতে একযোগে মাঠে নামল পুলিশ ও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিডি)। ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং বেআইনি কারবারের অভিযোগে নিমেষের মধ্যে খালি করে দেওয়া হলো সমগ্র গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট।

কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, গ্যালিফ স্ট্রিটের হাটে বেআইনিভাবে সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির পশুপাখি, বিরল প্রজাতির গাছপালা এবং মাছ বিক্রি করার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই ধরনের অবৈধ কারবার অবিলম্বে বন্ধের জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতে বলা হয়। এমনকি নির্দেশ না মানলে কাস্টমস বিভাগকে সরাসরি তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আদালত।

হাইকোর্টের সেই কড়া বার্তার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শ্যামপুকুর থানার তরফে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, কলকাতা পৌর সংস্থা (কেএমসি) থেকে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে কোনোভাবেই এখানে দোকান বা পশুপাখির পসরা সাজানো যাবে না।

বাগবাজার সখের হাট ব্যবসায়ী ওয়েলফেয়ার সোসাইটির লিগাল অ্যাডভাইজার রাজেন্দ্র প্রসাদ রায় চৌধুরী জানান, হাটের নির্দিষ্ট সদস্য নন এমন বহু বহিরাগত ব্যক্তি এসে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেআইনি গাছ ও মাছ বিক্রির ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। রবিবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাছ, কার্বন ডাই অক্সাইড সিলিন্ডার ও অবৈধ গাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ও নিয়ম মেনে চলা সদস্যদেরই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার সুপারিশ করা হবে।

রবিবার সকালে ডিডি ও বিশাল পুলিশ বাহিনী হাটে পৌঁছতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। কোনো বিক্রেতাই উপযুক্ত ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে না পারায় একের পর এক দোকান তুলে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় বেচাকেনা।

উল্লেখ্য, একসময় হাতিবাগান বাজারের কাছে মূল রাস্তার দু’পাশে বসত এই বিখ্যাত হাট। বাম আমলে সেখান থেকে হাট সরিয়ে গ্যালিফ স্ট্রিটে নিয়ে আসা হয় এবং বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য সার সার গুমটি দোকান বানিয়ে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গুমটি দোকান খালি ফেলে রেখে অধিকাংশ বিক্রেতাই রাস্তায় নেমে বেআইনিভাবে জাঁকিয়ে বসেছিলেন। আদালতের হস্তক্ষেপে এবার কি চিরতরে বন্ধ হবে এই ঐতিহ্যবাহী হাটের অনিয়ম, সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *