ট্রাম্পের হুঙ্কার উড়িয়ে পাল্টা জবাব ইরানের! আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বিশ্ব বাজার

যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না তাদের শর্তাবলী মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া বা আলোচনার টেবিলে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে সাফ জানিয়ে দিল ইরান। দুই দেশের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান হুশিয়ারি দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যদি তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে পুরো অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের সাহায্যকারী দেশগুলির ওপর ‘নিরবচ্ছিন্ন, কার্যকর ও বেদনাদায়ক’ হামলা চালানো হবে।

রবিবার (স্থানীয় সময়) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-য় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড—‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’—এই কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে বিশ্বনেতারা নিউ ইয়র্কে সমবেত হয়েছেন, ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে এই ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সেই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথ বন্ধই থাকবে।

সংঘাতের মূল কারণ ও আমেরিকার ভূমিকা: বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৪ জুলাই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলিতে জাহাজ যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকেই এই অবরোধ চলছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে ইরান তাদের আচরণ না বদলালে তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে যে নৌ-অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যেই ১০৯টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘুরপথে পাঠিয়ে দিয়েছে।

ইরানি সামরিক কমান্ড এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার কোনো সামরিক অভিযানে সহায়তা না করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। যেসব দেশ ওয়াশিংটনকে এই বিষয়ে সাহায্য করবে, তাদেরও এই অভিযানের অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন দ্বৈরথ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *