৪-০ গোল খেয়ে সাফ কংগ্রেস! ডাবল ধাক্কার পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়জয়কার আরএসএস ছাত্রসংগঠনের

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে এবিভিপির মেগা জয়! শূন্য হাতে ফিরল কংগ্রেস, কারচুপির তোপ দাগল এনএসইউআই
রাজধানী দিল্লির রাজনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ল। সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেও নিজের ক্ষমতা ধরে রাখল আরএসএস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। প্রধান চারটির মধ্যে সভাপতিসহ ৩টি পদেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে, কংগ্রেস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI) কোনো পদেই খাতা খুলতে না পেরে চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই ভোটগণনায় ব্যাপক কারচুপি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগ তুলে আসরে নেমেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন।
তিন পদেই জয়ী এবিভিপি, সহ-সভাপতি পদে চমক নির্দলের
ভোটের ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, সভাপতি পদে এবিভিপির প্রার্থী যশ দাবাস ২৪,৫৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনএসইউআই-এর বিজয় শঙ্কর মিনাকে ২,০৫৩ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়া সম্পাদক পদে এবিভিপির রিয়া ছাওড়ি ও যুগ্ম সম্পাদক পদে লক্ষ রাজ সিং জয়লাভ করেছেন। তবে সহ-সভাপতি পদে সবাইকে চমকে দিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন, যিনি পেয়েছেন বিপুল ৩০,৬৩৪টি ভোট।
জয়ের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে এবিভিপি সভাপতি যশ দাবাস বলেন, “এই ফলাফল আসলে সম্প্রীতি, দেশপ্রেম এবং আমাদের ঐক্যের জয়। এনএসইউআইকে ছাত্রসমাজ ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে।”
“বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবিভিপিকে জেতাতে ঝাঁপিয়েছে”, তোপ এনএসইউআইয়ের
ফলাফল প্রকাশের পরপরই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস সমর্থিত এনএসইউআই। তাদের অভিযোগ, গণনা চলাকালীন ক্রমাগত কারচুপি করা হয়েছে এবং শুরু থেকে এগিয়ে থাকা এনএসইউআই প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিডিও বার্তা পোস্ট করে এনএসইউআই দাবি করে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এবিভিপির পক্ষে কাজ করেছে। ভোটগণনার গতি কমিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের রায়কে অপমান করা হয়েছে।
রেকর্ড ভোটদান ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
সাম্প্রতিককালে বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং হোস্টেল ভাঙার মতো ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত ছিল দিল্লি। ফলে এই ছাত্র নির্বাচনকে বিধানসভা ও জাতীয় রাজনীতির একপ্রকার ‘লিপমাস টেস্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২টি কেন্দ্রে প্রায় ৪০.৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মোট ১,০০০টি ইভিএমের মাধ্যমে এবিভিপি, এনএসইউআই, আইসা এবং এসএফআইয়ের মতো বিভিন্ন দলের ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে সমস্ত সমীকরণ বদলে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ছাত্র সংসদের রাশ নিজেদের হাতেই রাখল এবিভিপি।