বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আর যুদ্ধ পরিস্থিতি! এর মাঝেই ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে বিরাট আশার বাণী শোনালেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক স্তরে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের চড়া দাম এবং বিশ্বজুড়ে বন্ডের ফলন বৃদ্ধির জেরে যখন চারদিকে অর্থনৈতিক আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনাচ্ছে, ঠিক সেই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ আশাবাদী বার্তা শোনালেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। এসোচ্যামের (ASSOCHAM) একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাহ্যিক প্রতিকূলতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মুখেও ভারতীয় অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠবে।

আত্মবিশ্বাসের নেপথ্য কারণ

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক নানা উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েও ভারত সফলভাবে তা মোকাবিলা করেছে। শুধু তাই নয়, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ ছুঁয়েছে। একই সঙ্গে সরকার তার আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্থায়িত্বের পথ থেকেও সরে আসেনি।

পূর্বে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিলক বা রাজকোষ ঘাটতি বেড়ে ৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও সারের দাম হ্রাস পাওয়ায় এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্র এখন অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী যে, এই ঘাটতি ৪.৩ শতাংশের কাছাকাছি রাখা সম্ভব হবে। সম্প্রতি ভারতের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং ‘A-‘ এ উন্নীত হওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রা আমানত অদলবদল ও বাহ্যিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বেসরকারি খাতের ভূমিকা ও কর্মসংস্থানের নতুন রূপ

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি সংস্থাকেও আরও বেশি মাত্রায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নাগেশ্বরন। তাঁর মতে, আগামী ২০ বছর বিগত ৮০ বছরের যুদ্ধোত্তর ব্যবস্থার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে চলেছে। তাই বেসরকারি কোম্পানিগুলিকে আরও বেশি বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান এবং গবেষণা ও উন্নয়ন বা R&D খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে।

পাশাপাশি বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর যুগে যুবসমাজকে কেবল গতানুগতিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রথাগত পেশাদারি ও ট্রেড স্কিল অর্জনে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহারে কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, বরং তা মানুষের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে—এমন দিশাতেই ভারতকে এগোতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *