স্টেশন থেকে সোজা হোটেলের ঘরে! শহরে ফেরার পরই প্রেমিকাকে যেভাবে কুপিয়ে খুন করল যুবক, জানলে শিউরে উঠবেন

শহর থেকে ঘুরে ফেরার পর বান্ধবীকে স্টেশনে আনতে যাওয়াই কাল হল তরুণীর। প্রেমিকা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন—এমন অন্ধ সন্দেহের বশে হোটেলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অসমের কামরূপ গ্রামীণ জেলার এই লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ২২ বছরের মালিনি গুড়িয়া অসমের সোনিতপুর জেলার হুগরাজুলির বাসিন্দা। গত শনিবার চেন্নাই থেকে আরও দুই মহিলার সঙ্গে ট্রেনে করে কামরূপে ফেরেন মালিনি। তাঁকে স্টেশন থেকে রিসিভ করতে গিয়েছিল তাঁর প্রেমিক অভিজিৎ কিনডো (যাঁর বাড়ি উদলগুলি জেলায়)। এরপর দু’জনে মিলে রঙ্গিয়া স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে ওঠে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্টেশনে যাওয়ার আগেই প্রেমিকাকে খুন করার মারাত্মক পরিকল্পনা কষে রেখেছিল অভিজিৎ। যুবকের দাবি, মালিনি অন্য কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন, যা সে সহ্য করতে পারেনি। এই নিয়েই তাদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে।
হোটেল রুমে অতর্কিত হামলা
নিহত তরুণীর বান্ধবীদের বয়ান অনুযায়ী, হোটেলের আলাদা ঘরে থাকার কথা থাকলেও রাতে মালিনির ঘরে চলে যায় অভিজিৎ। এরপর সেখানে থাকা একটি কাঁচি এবং টেস্টার দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয় ওই তরুণীকে। এমনকি ঘটনার পরদিন সকালে নিজেই মালিনির বান্ধবীদের ডেকে খুনের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত এবং আত্মহত্যার হুমকি দেয়।
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রঙ্গিয়া থানার পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় মালিনির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, আত্মহত্যার চেষ্টা করায় অভিযুক্ত অভিজিতের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল; পুলিশ তাকে প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।