১৪ বছরের কম বয়সীদের কী পড়ানো হচ্ছে? কেন্দ্রকে ৪ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিল শীর্ষ আদালত

১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের সাধারণ বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব টি.কে. অনিল কুমারকে শোকজ নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি আদালত অবমাননা আবেদনের শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া নোটিশ জারি করে।
কেন আদালতের এই কড়া অবস্থান?
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, শিশুদের শিক্ষাদানকারী সমস্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, সরকারি স্বীকৃতি এবং নিয়মিত নজরদারির দাবিতে এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। গত ১১ই মে শীর্ষ আদালত আবেদনকারীকে তাঁর সমস্ত দাবিসমূহ কেন্দ্র সরকারের কাছে পেশ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ, সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপে নেওয়া হয়নি। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এবার শিক্ষা সচিবের কাছে সরাসরি কৈফিয়ত চাইল আদালত।
আবেদনকারীদের মূল দাবিসমূহ:
-
বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও স্বীকৃতি: দেশজুড়ে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানকারী যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও সরকারি স্বীকৃতি বাধ্যতামূলক করতে হবে।
-
নিয়মিত পরিদর্শন: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কী ধরণের পড়াশোনা করানো হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত পরিদর্শন ও কড়া নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
-
সংবিধানের অনুচ্ছেদ রক্ষা: আবেদনকারীদের মতে, উপযুক্ত নজরদারি না থাকলে শিশুদের শিক্ষার অধিকার এবং সার্বিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ভারতীয় সংবিধানের ২১ক, ৩৯(চ), ৪৫ এবং ৫১ক(ক) অনুচ্ছেদের মূল চেতনার পরিপন্থী।
জাতীয় সুরক্ষা ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন
আদালতে পেশ করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কম বয়সে শিশুরা যেকোনো চিন্তাধারা দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হতে পারে। তাই তাদের নিরাপত্তা ও সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
এর পাশাপাশি জাতীয় সুরক্ষার মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের সীমান্তবর্তী একাধিক জেলায় বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত ও স্বীকৃতিহীন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। সীমান্ত এলাকায় কার্যকর নজরদারির অভাব থাকায় এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পদক্ষেপের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী জবাব দেয়, এখন সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।