১৯৮০-এর স্টাইলে ছবি বানানোর নেশা? প্রতিদিন পুড়ছে কোটি কোটি লিটার পানীয় জল, আসল সত্য জেনে চোখ কপালে উঠবে

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে ‘১৯৮০-এর ট্রেন্ড’। এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আকছার নিজেদের পুরনো দিনের ছবি বা নস্ট্যালজিক লুকে ছবি তৈরি করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন। মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ংকর পরিবেশগত সংকট।
জল ও বিদ্যুতের বিপুল অপচয়
যেকোনো এআই ইমেজ বা প্রম্পট প্রসেস করার জন্য ডেটা সেন্টারগুলিতে অতি ক্ষমতাশালী প্রসেসরের প্রয়োজন হয়। যার জেরে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের খরচ হয়, তেমনই এই বিশাল সিস্টেম ঠান্ডা করতে প্রয়োজন হয় টন টন পানীয় জল। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি স্ট্যান্ডার্ড রেজলিউশনের এআই ছবি তৈরি করতে প্রায় ২৯ মিলিলিটার জল খরচ হয়।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) এআই ইমেজ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শুধুমাত্র একটি ট্রেন্ড বা ছবি তৈরির জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮,৭০০,০০০,০০০ মিলিলিটার অর্থাৎ মোট ৮৭ লক্ষ লিটার মূল্যবান পানীয় জল ডেটা সেন্টারগুলির কুলিং সিস্টেমে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভবিষ্যতের বড় বিপদের সংকেত
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেটা সেন্টারগুলির সার্ভার ঠান্ডা রাখতে সাধারণ বা পরিশোধিত নয়, শুধুমাত্র খাঁটি পানীয় জলই ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে ডেটা সেন্টারগুলির বিদ্যুৎ ও জলের চাহিদা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। শখের বশে করা এই ডিজিটাল ট্রেন্ড কীভাবে ধীরে ধীরে পরিবেশের বড় ক্ষতি ডেকে আনছে, সেই নিয়েই এখন নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন পরিবেশবিদরা।