নির্বাচনের ঠিক আগেই সিএবিতে বিরাট পুলিশি হানা! মনোনয়নপত্র কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় ময়দান

আসন্ন সিএবি (CAB) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়াল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল চত্বরে। নির্বাচনের ঠিক আগেই কয়েকটি ক্লাবে মনোনয়নপত্র পাঠানো এবং কুরিয়ার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কারচুপি ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সোমবার সকালে সিএবি কার্যালয়ে পরিদর্শনের পর দুপুরে ফের ময়দান থানার পুলিশ সিএবি-তে পৌঁছায়।
পুলিশের জেরার মুখে কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিনের অভিযানে সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তদন্তকারীরা। এজিএম (AGM)-এর মনোনয়নপত্র কীভাবে পাঠানো হয় এবং তা কীভাবে জমা নেওয়া হয়—পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে কোষাধ্যক্ষর কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পুলিশকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় দাস। পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের তরফে এজিএমের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে, যেখানে ক্লাবটির প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে সন্দীপ দের।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবি’র বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুগ্মসচিব, সচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের এক সদস্য—এই তিনটি পদের নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের এক সদস্য গৌতম দে ময়দান থানায় অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছেন যে, নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ক্লাবের নির্দিষ্ট ও নথিভুক্ত ঠিকানায় না পাঠিয়ে সিএবি পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত কিছু বিশেষ ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ভোটের প্রক্রিয়া ও ভোটাধিকার প্রয়োগকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানাকে নির্দেশ দিয়েছে ক্লাবগুলো ফর্ম ঠিকমতো পেয়েছে কি না তা যাচাই করতে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে খামের ছবি ও স্ট্যাম্পের প্রমাণও তলব করা হয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সিএবি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর ক্রমশ চড়ছে।