মাত্র ১টি ভোট! নিজের ওয়ার্ডেই চূড়ান্ত ভরাডুবি, বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর এই হাল কেন হলো?

রাজস্থানের পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস ও বিজেপির চিরাচরিত লড়াইয়ের পাশাপাশি সেখানে বিরোধী শক্তি হিসেবে আম আদমি পার্টি (AAP) এবং সিপিএম-এর (CPM) উত্থান যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই অন্যদিকে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন এক বিজেপি প্রার্থী, যাঁর নিজের ওয়ার্ডে পড়ার মতো ভোট পড়েছে মাত্র একটি!

নিজের ওয়ার্ডে মাত্র ১ ভোট পেলেন বিজেপি প্রার্থী!

রাজস্থানের পর্বতসার পুরসভার অন্তর্গত ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন কৈলাসচাঁদ। ভোটের ফলাফল প্রকাশ পেতেই দেখা যায়, কংগ্রেস প্রার্থী হিনা খানম সেখানে ৩৭৬টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং নির্দল প্রার্থী রশিদ খান ১৯৫টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। কিন্তু সকলের নজর কাড়ে বিজেপি প্রার্থী কৈলাসচাঁদের প্রাপ্ত ভোট—তাঁর ঝুলিতে পড়েছে মোটে একটি ভোট!

এহেন অদ্ভুত ফলাফলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কৈলাসচাঁদ সংবাদ সংস্থাকে জানান যে তিনি আসলে পাশের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার, কিন্তু দল তাঁকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী করেছিল। মজার বিষয় হলো, ওই ওয়ার্ডে একমাত্র তিনিই নিজেকে ভোট দিয়েছেন বা তাঁকে কেউ একজন ভোট দিয়েছেন। শুধু কৈলাসচাঁদ একা নন, ধৌলপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির আরেক প্রার্থী লক্ষ্মণ কোলী এবং নাগৌরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী মজীদ মহম্মদও মাত্র একটি করে ভোট পেয়েছেন। আবার বালৌতরা ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আরএলপি (RLP) প্রার্থী ওমপ্রকাশ একটিও ভোট না পেয়ে খাতা খুলতে পারেননি।

সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলে বড় চমক

এবারের রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে কংগ্রেস ও বিজেপির বাইরে আম আদমি পার্টি এবং সিপিএম শক্ত ভিত তৈরি করেছে। রাজ্যের ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জিতেছে এবং কংগ্রেস ৩,৬১৩টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় জয়ী প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম।

বিশেষ করে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজের রাজনৈতিক দুর্গ বলে পরিচিত ঝালাওয়ারেও জয় পেয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভরতপুরে নির্দল প্রার্থীরা বড় চমক দেখিয়ে ৬৫টির মধ্যে ৩৬টিতেই জয়ী হয়েছেন। এছাড়া রাষ্টীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি ৬৩টি, আম আদমি পার্টি ৪২টি, সিপিএম ৩৮টি, বহুজন সমাজ পার্টি ১৯টি এবং ভারত আদিবাসী পার্টি ৮টি ওয়ার্ডে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে এই বহুমুখী লড়াই আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *