ক্যানসার স্পেশালিস্ট সেজে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা! সোনারপুরের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানলে শিউরে উঠবেন

গলায় স্টেথোস্কোপ, চেম্বারে রোগীর ভিড় এবং প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের পরিচয়— নিজেকে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বা অনকোলজিস্ট বলে দাবি করতেন বিশ্বরূপ আচার্য। নামের পাশে এমবিবিএস এবং এফআরসিএস-এর মতো বড় বড় ডিগ্রির উল্লেখ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা যে পুরোটাই ভুয়া, তা ধরে ফেলল পুলিশ। সোনারপুরের ঘাসিয়ারার একটি চেম্বার থেকে রোগী সেজে পুলিশ হানা দিয়ে ওই ভুয়ো চিকিৎসককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।
রোগী সেজে অভিযান পুলিশের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ঘাসিয়ারা এলাকায় একটি বাড়িতে নতুন করে চেম্বার খুলেছিলেন বিশ্বরূপ। সেখানে নিয়মিত রোগী দেখার পাশাপাশি তিনি নিজেকে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচয় দিতেন। তবে তাঁর ব্যবহার করা পরিচয়পত্র ও ডিগ্রি নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি বাড়ির মালিকের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
এর পরেই তদন্তকারীরা এক অভিনব কৌশল নেন। তাঁরা সোজা চেম্বারে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করে সাদা পোশাকে রোগী সেজে সেখানে পৌঁছন। চিকিৎসা এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে তাঁর কথাবার্তায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তাঁকে আটক করে সোনারপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়।
৮টি চেম্বার জুড়ে জালিয়াতির জাল
তদন্তে নেমে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। বিশ্বরূপের শুধু একটি নয়, সোনারপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় মোট আটটি চেম্বার ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি চেম্বারেই তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং রোগীপিছু প্রায় ৮০০ টাকা করে ভিজিট নেওয়া হতো। ক্যানসারের মতো একটি মারণ ও জটিল রোগের ক্ষেত্রে তিনি ঠিক কী ধরনের চিকিৎসা করতেন এবং কাদের কোন ওষুধ দিতেন, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ভুল চিকিৎসার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা কতটা ছিল, তা খতিয়ে দেখে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তারও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।