হাড়োয়ায় সম্প্রীতির অনন্য ছবি! জাতি-ধর্মের বিভেদ ভুলে একসঙ্গে গণেশ পুজোয় মেতে উঠলেন হিন্দু-মুসলিম

ধর্মীয় গোঁড়ামি ও বিভেদের দেয়াল ভেঙে বসিরহাটের হাড়োয়ায় রচিত হল সম্প্রীতির এক অনন্য ইতিহাস। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মেতে উঠলেন গণেশ আরাধনায়। পুজো শেষে সকলের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ প্রসাদ, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের মন জয় করে নেয়।
হাড়োয়া থানার অন্তর্গত হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আন্ধিরর মাঠ কালিতলা মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই গণেশ পুজো চলতি বছরে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। গণেশ চতুর্থীর পুণ্যলগ্নে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা পুজো প্রাঙ্গণে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এই আনন্দানুষ্ঠানে।
এই পুজোর সবচেয়ে বড় এবং নজরকাড়া দিক ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে এই উৎসব যেন পরিণত হয়েছিল সর্বধর্ম সমন্বয়ের মিলনমেলায়। পুজো শেষে এলাকার সব স্তরের মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়, যা এলাকার সমাজজীবনে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল বার্তা বহন করে।
এদিনের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রদেশ সদস্য সুসেন বৈদ্য, বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব মোর্চা সম্পাদক প্রতীক আইচ, হাড়োয়া ১ নম্বর মণ্ডল বিজেপির সহ-সভাপতি পার্থ চ্যাটার্জি এবং বিজেপির সংখ্যালঘু নেতা রেজাউল মোল্লাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।
গণেশ বন্দনাকে কেন্দ্র করে হাড়োয়ার এই আয়োজন প্রমাণ করে দিল যে উৎসব কেবল নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের নয়, বরং তা সমাজকে এক সুতোয় বাঁধার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে হাড়োয়ার এই ছবি গোটা রাজ্যবাসীর কাছে সামাজিক সম্প্রীতি ও অটুট সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।