কালীঘাটে ভল্টের চাবি উধাও! দক্ষিণাকালীর গয়না ও সম্পত্তি নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় সাবর্ণ পরিবার

কালীঘাট মন্দিরের পরিচালনা ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। মন্দির পরিচালনা এবং বহুমুখী দুর্নীতির সত্যতা উন্মোচন করতে এবার সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ঐতিহাসিক সাবর্ণ রায়চৌধুরীর পরিবার। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অবিলম্বে সিবিআই তদন্ত অথবা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির কাছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে মন্দিরের অন্দরে চলা বিভিন্ন অব্যবস্থা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, জেলা স্তরে উপযুক্ত সুরাহা না মেলাতেই তাঁরা বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিচার না পেলে এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হবে বলেও সাফ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, মন্দিরের বর্তমান পরিচালন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধি এবং সাবর্ণ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ পরিচালন কমিটি গঠনের দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে গর্ভগৃহে প্রবেশের নির্দিষ্ট নীতি কঠোর করা এবং অবাধে ছবি তোলা বন্ধ করে মন্দিরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা বজায় রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে।
উধাও ভল্টের চাবি, তুঙ্গে পুরনো বিতর্ক
কালীঘাট মন্দিরের সম্পত্তি ও আর্থিক গরমিলের ইতিহাস বহু পুরনো। এর আগে ২০০৬ সালে প্রণামীর টাকা লোপাট ও তছরুপের অভিযোগ গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও সেই বিতর্কের রেশ কাটেনি। বর্তমান পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়িয়ে সাম্প্রতিককালে সামনে এসেছে ভল্টের চাবি নিখোঁজ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮০ সাল থেকে যে ব্যাঙ্কের ভল্টে মা দক্ষিণাকালীর বহুমূল্য অলঙ্কার ও গয়না সুরক্ষিত থাকার কথা, তার মূল চাবিই এখন উধাও। এর ফলে দেবীর মহামূল্যবান গয়নাগুলি আদৌ সুরক্ষিত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ভক্তমহল ও সাবর্ণ পরিবারের অন্দরে গভীর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর কালীঘাটের দক্ষিণাকালীর গয়না এবং সম্পত্তির সঠিক হিসাব ও নথির দাবিতে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের এই আইনি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।