আধুনিক এলএইচবি কোচেও ট্রেন ছাড়ার সময় কেন এই তীব্র ঝাঁকুনি? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!

বর্তমানে ভারতীয় রেলের বেশিরভাগ ট্রেনেই পুরনো আইসিএফ (ICF) কোচের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় আধুনিক এলএইচবি বা লিঙ্ক-হফম্যান-বুশ (Linke-Hofmann-Busch) কোচ। এই কোচগুলি যেমন একদিকে অত্যন্ত আরামদায়ক এবং যাত্রী-বান্ধব, তেমনই ঘাত-প্রতিঘাতে সহজে নষ্ট হয় না। এমনকি যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় যাত্রীদের মারাত্মক আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনাও এই কোচে অনেকটাই কম থাকে। তবে প্রশ্ন হলো, এত অত্যাধুনিক এবং সুরক্ষিত কোচ ব্যবহারের পরও ট্রেন ছাড়ার সময় বা থামার মুহূর্তে হঠাৎ এত ঝাঁকুনি অনুভূত হয় কেন?
এর নেপথ্যে রয়েছে পুরনো আইসিএফ এবং আধুনিক এলএইচবি কোচের গঠনগত প্রধান পার্থক্য। মূলত, এলএইচবি কোচে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের ‘টাইট-লক সিবিসি’ বা সেন্টার বাফার কাপলার (Tight-lock CBC)। এই আধুনিক ব্যবস্থায় দুটি কোচের সংযোগস্থলের মধ্যে ঢিল বা ফাঁক অনেকটাই কম রাখা হয়। এর ফলে ট্রেন চলা শুরু করার সময় ইঞ্জিনের শক্তিশালী টান কিংবা ট্রেন থামানোর সময় ব্রেকের প্রভাব অত্যন্ত দ্রুত পরবর্তী কোচগুলিতে এসে পৌঁছায়। এই দ্রুত সংযোগের কারণেই যাত্রীদের কাছে ঝাঁকুনিটা অনেক সময় বেশি তীব্র বলে মনে হয়।
তবে এই বিশেষ কাপলিং ব্যবস্থা কেবল যাত্রীদের সাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি, এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাকবচ। সিবিসি (CBC)-র ‘অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং’ (Anti-climbing) ব্যবস্থা যেকোনো বড় দুর্ঘটনার সময় একটি কোচকে অন্য কোচের উপর উঠে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে উচ্চগতির (High-speed) ট্রেনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি এক অপরিহার্য অঙ্গ।