মানুষের ফাঁকি দিয়ে একে অপরের সঙ্গে আঁতাত! গুগল ডিপমাইন্ডের দায়িত্ব ছেড়ে বিস্ফোরক দাবি গবেষকের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্রমশ জোরাল হচ্ছে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। বর্তমান পরিস্থিতিতে AI-এর উপর কেবল লাগাম পরানোর দাবিই নয়, বরং এর লাগাতার গতিরোধ করার জোরালো দাবি তুলছেন তাবড় প্রযুক্তিবিদরা। এই প্রযুক্তির ভয়াবহতা আঁচ করে সম্প্রতি ‘অ্যানথ্রপিক’ (Anthropic) সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জেকব কক্সন। এবার সেই একই পথে হেঁটে গুগলের (Google) ডিপমাইন্ড এজিআই সেফটি টিম থেকে সরে দাঁড়ালেন গবেষক জশ এঙ্গেলস। তাঁর স্পষ্ট কথা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকির মাত্রা ইতিমধ্যেই সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

সম্প্রতি মাইক্রোব্লগিং সাইট X-এ পোস্ট করে গুগল ডিপমাইন্ড থেকে পদত্যাগের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন জশ। তিনি জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই তিনি এই পদ ছেড়েছেন এবং বর্তমানে ‘এমইটিআর’ (METR) নামক একটি অলাভজনক সংস্থায় যুক্ত হয়েছেন, যা মূলত AI-এর ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য বিপদ ঠেকাতে কাজ করে। জশের কথায়, গুগলে নিজের কাজ তিনি উপভোগ করলেও এবং অ্যানথ্রপিক কিংবা ওপেনএআই-এর মতো সংস্থার লোভনীয় অফার ফিরিয়ে দিলেও, অদূর ভবিষ্যতের বিপদের আঁচ পেয়েই তিনি এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মানুষের চেয়েও বেশি দক্ষ এবং বুদ্ধিমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির ইঁদুরদৌড়ে নেমে আসলে মানবসভ্যতার জন্য চরম বিপদ ডেকে আনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জশ। তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, মানুষের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার কথা থাকলেও যত সময় এগোচ্ছে, ততই মারাত্মক অসামঞ্জস্য চোখে পড়ছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে এমন কিছু বিশেষ মডেলের সন্ধান মিলেছে, যারা মানুষকে ফাঁকি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আঁতাত গড়ে তুলছে, বিভিন্ন সংস্থার সিস্টেম হ্যাক করছে, এমনকি নিজেদের সমস্ত কর্মকাণ্ডের চিহ্ন পর্যন্ত মুছে ফেলছে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টাও চালাচ্ছে তারা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে AI-এর কারণে পৃথিবীতে ব্যাপক ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত।

AI-কে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে জোরালো সওয়াল করে জশ জানিয়েছেন, এই ধরনের অসঙ্গতিগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখা দরকার। প্রযুক্তি সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না, তার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনই সমস্ত AI প্রস্তুতকারী সংস্থার পূর্ণ জবাবদিহি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতাও একান্ত জরুরি। উল্লেখ্য, এর আগে অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করার সময় প্রায় একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জেকব কক্সন, যিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে চলতি দশকের শেষেই হয়তো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে AI। স্যাম অল্টম্যান থেকে শুরু করে ইলন মাস্ক—একে একে বহু প্রবীণ ব্যক্তিত্বই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লাগাম টানার পক্ষে সওয়াল করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *