পিসার মিনারের থেকেও বেশি বাঁকা! এই রহস্যময় গির্জার অন্দরে পা রাখলেই কেন মানুষ উল্টে পড়ে যায়?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইন दिनों একটি অদ্ভুত ভিডিও বেশ ঝড় তুলেছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটপাড়ার। ভিডিওটিতে একটি অদ্ভুত আকৃতির গির্জা দেখা যাচ্ছে, যার অন্দরে পা রাখলেই মানুষ নিজে থেকেই একপাশে ঝুঁকে পড়তে বাধ্য হন। সোজা হয়ে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, সেখানে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই যেন এক অসম্ভব ব্যাপার।
কোথায় অবস্থিত এই রহস্যময় গির্জা?
প্রাথমিক ইনস্ট্রাগ্রামের একটি পেজে দাবি করা হয়েছিল যে এই আশ্চর্য গির্জাটি জর্জিয়ার সিঘনাঘি এলাকায় অবস্থিত। তবে কমেন্ট বক্সেই সেই দাবির সত্যতা খারিজ করে নেটিজেনরা জানান যে, এই স্থানটি আসলে জর্জিয়া নয়, বরং গ্রিসের একটি পাহাড়ি গ্রাম।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গ্রিসের ত্রিকালা অঞ্চলের কাছে ‘রোপোটো’ নামের একটি ছোট্ট ও বর্তমানে সম্পূর্ণ ভুতুড়ে পাহাড়ি গ্রামে অবস্থিত এই অদ্ভুত গির্জাটি। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ওই অঞ্চলে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও প্রবল ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল। যার জেরে আস্ত গ্রামটি মাটির নিচে ধসে যায় এবং বাসিন্দাদের চিরতরে এলাকা ছাড়তে হয়।
কেন এতখানি ঝুঁকে রয়েছে এই গির্জা?
তীব্র ভূমিধসের সময় মাটি ও পাথরের বিশাল ধাক্কায় আস্ত এই পাথর নির্মিত গির্জাটি নিজের মূল ভিত্তি থেকে প্রায় ২০০ গজ নিচে সরে যায়। তবে অলৌকিকভাবে গির্জাটি সম্পূর্ণ ভেঙে না গিয়ে অক্ষত থাকে, কিন্তু এর গোটা কাঠামোটি প্রায় ১৭ ডিগ্রি কোণে হেলে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালির বিখ্যাত পিসার মিনার বা বিশ্বের অন্যান্য হেলে থাকা স্থাপত্যের থেকেও এটি অনেক বেশি কোণে ঝুঁকে রয়েছে।
বর্তমানে এই অদ্ভুত কাঠামোর টানে সেখানে বহু পর্যটক ও কৌতূহলী মানুষ ভিড় করেন। গির্জার ভেতরে প্রবেশ করলেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মানুষ দেওয়ালে ভর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। এই মজার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে অনেকে আবার মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ নাচের সঙ্গেও তুলনা করছেন। সবমিলিয়ে প্রকৃতির এমন খেয়ালি রূপ দেখে রীতিমতো অবাক গোটা বিশ্ব।