এক ফুটের মূর্তি থেকে সোজা ৬৯ ফুট আকাশচুম্বী প্রতিমা! খয়রাতাবাদ গণেশের এমন অবিশ্বাস্য ইতিহাস জানেন?

‘পঞ্চমুখ সঙ্কটহর মহা গণপতি’ রূপে এ বছর তেলেঙ্গানায় আবির্ভূত হয়েছেন বিঘ্নহর্তা। প্রতি বছরই গণেশ চতুর্থী দেশজুড়ে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। কোথাও হয় বিশালাকার থিম পুজো, আবার কোথাও হয় সুদৃশ্য ও সাদামাটা বন্দনা। তবে হায়দরাবাদের ঐতিহাসিক খয়রাতাবাদ বিনায়কের আরাধনা বরাবরই সবকিছুর থেকে আলাদা এবং নজরকাড়া।

খয়রাতাবাদে গণেশ পুজোর সূচনা হয়েছিল ১৯৫৪ সালে। সে সময় সিঙ্গারি শঙ্করিয়া নামে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী ও তৎকালীন কাউন্সিলর স্থানীয় একটি গ্রন্থাগারে মাত্র এক ফুটের একটি মূর্তি দিয়ে এই পুজোর গোড়াপত্তন করেছিলেন। টানা নয় বছর সেই ঘরের মধ্যেই পুজোটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিয়মমাফিক প্রতি বছর প্রতিমার উচ্চতা এক ফুট করে বাড়তে বাড়তে তা ৯ ফুটে পৌঁছয়। কিন্তু পরবর্তীকালে ১০ ফুটের মূর্তিটি আর ঘরের ভেতর রাখা সম্ভব না হওয়ায়, সেটিকে লাইব্রেরির সামনের ছাদে স্থাপন করা হয়। আর আজ সেই প্রতিমা বাড়তে বাড়তে লম্বায় দাঁড়িয়েছে তাক লাগানো ৬৯ ফুটে!

কোটি টাকার বাজেট ও কড়া নিরাপত্তা

খয়রাতাবাদ গণেশ উৎসব কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এই বিশাল প্রতিমা তৈরিতে ১.০৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। তবে এবছর উপকরণের দাম বাড়ার কারণে সেই বাজেট বেড়ে পৌঁছেছে ১.২০ কোটি টাকায়। পুজো মণ্ডপের সামনে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ব্যারিকেড। এ ছাড়াও প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিশেষ ক্রেনের ব্যবস্থা করেছে তেলেঙ্গানা সরকার। অনন্ত চতুর্দশী অর্থাৎ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রতিমা নিরঞ্জনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিদিন এই মণ্ডপে প্রায় এক লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। ভিভিআইপি দর্শন ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুলিশ প্রশাসনের তরফেও নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।

নজর কাড়ছে বাংলার মাটির পরিবেশবান্ধব প্রতিমা

অন্যদিকে, এবছর তেলেঙ্গানার সবচেয়ে বড় মাটির গণপতি তৈরি হয়েছে নাগোল এলাকায়। ‘তিরঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই পরিবেশবান্ধব গণেশ প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে লাঠি, ঘাস, ধানের খোসা, পাট, কলকাতার মাটি, তুলো এবং গঙ্গার মাটি। মনোরম জলরঙে সাজিয়ে তোলা এই প্রতিমা আগামী ২৬ তারিখে মণ্ডপেই বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *