আমেরিকান টেক সাম্রাজ্য ভাঙতে আসরে চিন! চ্যাটজিপিটিকে টেক্কা দিতে কোন বড় ঘোষণা করলেন শি জিনপিং?

মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির একচেটিয়া প্রভাব ও রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ময়দানে ‘ওপেন সোর্স’ জোট গড়ার জোরালো ডাক দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে বেজিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই মুক্ত-ব্যবস্থার প্রস্তাব পেশ করা হয়। তবে চীনের এমন চাঞ্চল্য়কর প্রস্তাবের পরেও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা অবস্থান স্পষ্ট করেনি ভারত।
প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মূলত তিনটি প্রধান ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘চ্যাটজিপিটি’ বা ‘ক্লোড’-এর মতো বাণিজ্যিক ব্যবস্থাগুলি ব্যবহার করতে গেলে ব্যবহারকারীদের বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়। অন্যদিকে রয়েছে উন্মুক্ত বা ‘ওপেন ওয়েট’ ব্যবস্থা, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং যৌথভাবে ব্যবহারের উপযোগী। তবে এই ব্যবস্থার নেপথ্যে প্রত্যক্ষভাবে চীনের নাম জড়িয়ে রয়েছে। এর আগে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে ভারত যে অবস্থান নিয়েছিল, তা হলো—কোনো একক দেশের ওপর একপাক্ষিক নির্ভরতা না রেখে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, তথ্যের গোপনীয়তা এবং সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করে প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া।
খরচের বিশাল ফারাক ও ভারতের সামনে বিকল্প
প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিচার করলে ‘ওপেন ওয়েট’ এআই মডেল যে কেউ নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে সহজেই চালাতে পারেন, যার ফলে খরচের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। মেটার ‘লামা’ কিংবা চীনের ‘দীপসিক’-এর মতো ওপেন মডেলগুলি অত্যন্ত কম খরচে তৈরি করা সম্ভব, যেখানে মার্কিন মডেলগুলির পেছনে খরচ হয় আকাশছোঁয়া অর্থ।
তুলনা করলে দেখা যাবে, ভারতের পাঁচ বছরের ‘ইন্ডিয়া-এআই মিশন’-এর মোট বাজেট যেখানে ১০,৩৭২ কোটি টাকা, ঠিক সেই পরিমাণ অর্থ মার্কিন সংস্থা ওপেনএআই মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই খরচ করে ফেলে। খরচের এই বিপুল ব্যবধানের কথা মাথায় রাখলে, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের নিজস্ব এআই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ‘ওপেন ওয়েট’ বা মুক্ত প্রযুক্তির এই সস্তা পথই একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।