হাতের কাজ আমাদের, নাম নেই ভারতের! আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে কেন ফুঁসে উঠলেন নেটিজেনরা?

জারদৌসি হোক বা আড়ি! প্রাডার পর রালফ লরেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় শিল্প ‘চুরি’র অভিযোগ, ক্ষুব্ধ ফ্যাশন দুনিয়া

বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলি কি বারবার সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে? প্রাডার পর এবার আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘রালফ লরেন’ (Ralph Lauren)-এর নতুন পোশাকের প্রদর্শনী ঘিরে মাথাচাড়া দিয়েছে চরম বিতর্ক। র‍্যাম্পের আলোয় ঝলমলে গোলাপি গাউনে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্পের স্পষ্ট ছাপ থাকলেও, পোশাকের বিবরণে কোথাও জায়গা পায়নি ‘ভারত’ বা এদেশের কারিগরদের নাম। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনরা।

ঠিক কী ঘটেছে?

সম্প্রতি রালফ লরেনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জমকালো গাউনের ক্লোজ-আপ ছবি পোস্ট করা হয়। পোশাকটিতে সোনালি ধাতব সুতো, পুঁতি ও নিখুঁত হাতের সূক্ষ্ম কাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বর্ণনায় সেই কারুশিল্পকে স্রেফ ‘হাতে করা অলঙ্করণ’ (hand-applied embellishments) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় ঐতিহ্যকে নিজেদের নামে চালিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা এবং মূল কারিগরদের প্রাপ্য সম্মান না দেওয়ার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন ডিজাইনার প্রখর রাও সিং চান্দেল সহ অনেকেই।

প্রখরের স্পষ্ট প্রশ্ন, যে কাজটিকে স্রেফ ‘পুঁতি ও ধাতব সুতোর সূচিকর্ম’ বলে চালানো হচ্ছে, লখনউ এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে তার নির্দিষ্ট নাম রয়েছে—তা হল ‘জারদৌসি’ (Zardozi), যা জিআই (GI Tag) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলি ঐতিহ্যের বড়াই করে ফায়দা লুটলেও, প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কারিগরের ইতিহাসকে এক ঝটকায় মুছে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আড়ি কাজ ও অতীতের বিতর্ক

শুধু জারদৌসি নয়, ফ্যাশনপ্রেমীদের একাংশের দাবি, এই পোস্টিংয়ে যে সূচিশিল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা শত শত বছরের পুরনো ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ‘আড়ি’ (Aari) কাজ। এর আগে প্রাডার বিরুদ্ধেও মহারাষ্ট্রের ‘কোলাপুরি চটি’র ডিজাইনকে সাধারণ চামড়ার স্যান্ডেল বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বারবার এই ধরনের ‘সংস্কৃতি চুরি’ (Cultural Appropriation) বা অন্যের কৃষ্টিকে নিজের বলে জাহির করার প্রবণতার বিরুদ্ধে এখন সরব হয়েছে গোটা ফ্যাশন বিশ্ব। সমালোচকদের সাফ কথা, ভারতের নাম উচ্চারণ করতে কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের এক টাকাও খরচ হয় না, কিন্তু সেই স্বীকৃতিটুকু না পেলে অন্ধকারে হারিয়ে যাবেন দেশের আসল কারিগররা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *