পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডির এফআইআর! ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ফাটল ধরাতেই কি কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই চাল?

পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডি-র এফআইআরের দাবি! ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ফাটল ধরানোর কৌশল, বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের
অনুষ্টুপ রায় বর্মণ | দ্য ওয়াল ব্যুরো | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়ের করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ করলেন ইউডিএফ সমর্থিত নির্দল বিধায়ক টি কে গোবিন্দন। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ফাটল ধরাতেই এই কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একসময়ের সিপিআই(এম) নেতা তথা তালিপারম্বার এই বিধায়ক সোমবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইডির এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং তাঁর মেয়ে বীণা-র বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গোবিন্দন জানান, যদি মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে বীণা অবৈধভাবে উপার্জন করে থাকেন, তবে তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু যেকোনও তদন্তেরই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা পদ্ধতি থাকা উচিত। বিজয়নকে নিশানা করাই যদি একমাত্র উদ্দেশ্য হয়, তবে সেন্ট্রাল এজেন্সিগুলির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইডির তরফে রাজ্য পুলিশের প্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে বীণা, বীণার স্বামী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এফআইআর করার আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই প্রসঙ্গেই গোবিন্দন প্রশ্ন তোলেন, ইডি তো নিজেই সরাসরি মামলা বা এফআইআর দায়ের করতে পারে, তবে কেন তারা রাজ্য সরকারের ওপর এই দায়িত্ব চাপাচ্ছে? তাঁর সাফ কথা, এর পেছনে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল কেরলের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে এবং সামগ্রিকভাবে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করা।
সিএমআরএল ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্তে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতেই ইডি এই এফআইআর দায়েরের আর্জি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড কোম্পানি পিনারায় বিজয়নের মেয়ের সংস্থার কাছে জালিয়াতি করে প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকা প্রদান করেছিল। এই ঘটনার তদন্তে গত জুন মাসেই বীণার বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।