শেয়ার বাজারে ধস নামানোর প্রস্তুতি? বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এক ঝটকায় তুলে নিলেন ১৩ হাজার কোটিরও বেশি টাকা!

বিগত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইলেও সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই তৈরি হয়েছে এক বিশাল উদ্বেগের পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে থাকা অস্থিরতা, চড়তে থাকা মার্কিন বন্ড ইয়েল্ড এবং বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI)। সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহেই তাঁরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে এক ধাক্কায় ১৩,১৩৮ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন!

এই অর্থনৈতিক সঙ্কটের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক একনজরে দেখে নিন:

  • জুলাই-আগস্টের স্বস্তি হাওয়া উধাও: এর আগের দুই মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে ২০,২০০ কোটি এবং আগস্ট মাসে ২৯,৬৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ভারতীয় বাজারে ‘নেট বায়ার’ বা শুদ্ধ ক্রেতার ভূমিকায় ছিলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সেপ্টেম্বর শুরু হতেই সেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

  • চলতি বছরে মোট পুঁজি বহিঃপ্রবাহ: সাম্প্রতিক এই বড় বিক্রির জেরে চলতি বছরে (২০২৬) এখনও পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট টাকা তুলে নেওয়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা—যা গত পুরো বছরের চেয়েও অনেক বেশি।

  • কেন হঠাৎ এই বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ঘরোয়া কোনো কারণ দায়ী নয়, বরং বিশ্বজোড়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সমীকরণই এর মূল কারণ। শুক্রবার অপরিশোধিত তেল বা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ১১০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছুঁয়েছে।

  • আমেরিকান বন্ড ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ: মার্কিন ১০-বছরের ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ার কারণে গ্লোবাল ইনভেস্টররা উদীয়মান বাজার বা ইমার্জিং মার্কেট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ ও বেশি রিটার্ন দেওয়া বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন।

  • সামনে কি আরও বড় পতন? অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, তেলের চড়া দাম এবং বিশ্বব্যাপী আর্থিক নীতির কড়াকড়ি বজায় থাকলে শেয়ার বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে, যা সাধারণ ছোট বিনিয়োগকারীদের চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *