বিষমদে সলিল সমাধি ৯ জনের! নাগাল্যান্ডজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারির পর এবার কোন ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস?

বিষাক্ত মদ খেয়ে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় কেঁপে উঠল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য নাগাল্যান্ড। টুয়েনসাং সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষমদ খেয়ে মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই গোটা রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছেন পুলিশ প্রধান রূপিন শর্মা। বিশেষ করে মন, মোকোকচুং এবং টুয়েনসাং সহ মোট সাতটি সংবেদনশীল জেলায় সাধারণ মানুষকে মদ পান করা থেকে বিরত থাকার কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ফাঁক গলে ছড়াচ্ছে এই বিষাক্ত মদ? বিস্ফোরক তথ্য:

আইন কাগজ-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ কতটা ফাঁপা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে:

  • আড়ালে দেদার বেআইনি কারবার: ১৯৯০ সালে কঠোর আইন ও চার্চের নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও বাস্তবে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। খোদ বিধানসভার আবগারি উপদেষ্টার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মুদিখানা, পান বা ঠান্ডা পানীয়ের দোকানের আড়ালে দিমাপুর ও কোহিমার মতো শহরে দেদার বেআইনি ও ভেজাল মদ বিক্রি হয়ে চলেছে।

  • তরুণ প্রজন্মের ওপর কোপ: আইনের ফাঁকে বাজারে ছড়িয়ে পড়া এই বিষাক্ত ও ভেজাল মদের শিকার হচ্ছে প্রধানত তরুণ প্রজন্ম। পাশাপাশি, চড়া দামের সুযোগ নিয়ে যুবসমাজ এখন আরও মারাত্মক সব মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • আসামের মদ মাফিয়াদের রমরমা: প্রতিবেশী রাজ্য আসামে ঘাঁটি গেড়ে বসা মদ মাফিয়াদের রমরমার কারণে একদিকে যেমন শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি। মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও জানিয়েছেন, সরকার জোগান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও চাহিদাই নতুন পথ তৈরি করে নিচ্ছে।

এই ভয়ংকর পরিস্থিতির পর রাজ্যজুড়ে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে কড়া নজরদারির মাধ্যমে লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর জোরালো দাবি তুলছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *