সব জল্পনার অবসান! ব্রিকসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্ব শাসনব্যবস্থা বদলের ১০ দফা রূপরেখা পেশ মোদির!

বিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও জোরালো ভূমিকা থাকার পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এই বার্তা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার মূল সুর ছিল—গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে আর শুধুমাত্র তৈরি করা নিয়ম অন্ধের মতো মেনে চলা দেশ (রুল টেকার) হিসেবে আটকে থাকলে চলবে না, বরং আন্তর্জাতিক নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের সক্রিয় চালিকাশক্তি (রুল শেপার) হিসেবে সামনে আসতে হবে।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি ও মোদির এই জোরালো অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মোদির দ্ব্যর্থহীন ভাষায়, বর্তমান বিশ্ব পরিচালনার কাঠামোয় ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করলেও যখন বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে, তখন তাদের পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হয়।
বিশ্ব ব্যবস্থার পিরামিড তত্ত্ব ও ১০ দফা রোডম্যাপ: বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাকে একটি পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কাঠামোয় সমস্ত ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিকর্তা ওপরের সারির কিছু দেশ। অথচ নিচের সারির কোটি কোটি মানুষকে সেই সিদ্ধান্তের ফল বা জাঁতাকলে পিস্ট হতে হয়। এই কাঠামোগত বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ব্রিকস জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমস্ত দেশকে সঙ্গে নিয়ে সুষমভাবে এগিয়ে যাওয়াই এই অক্ষের মূল লক্ষ্য।
আগামী দুই দশকের বৈশ্বিক রূপরেখা তৈরি করতে প্রতিনিধিত্ব, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ম তৈরির ক্ষমতা—এই তিন মূল স্তম্ভকে সামনে রেখে ১০ দফা রোডম্যাপ পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারকে অবিলম্বে বাস্তবায়িত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির ভোটাধিকার এবং নীতিনির্ধারণে সঠিক প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছে।
কার্যকরী ট্রয়োকা ও নাবিকদের সুরক্ষা নেটওয়ার্ক: ব্রিকস জোটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘Troika’ (ট্রয়োকা) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছেন মোদি, যেখানে বিগত, বর্তমান ও পরবর্তী সভাপতি দেশ একত্রে কাজ করবে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নাবিকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ ‘নাবিক জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা বিপদের দিনে নাবিকদের চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় বিরাট ভূমিকা পালন করবে।