‘তৃণমূল কারও বাবার সম্পত্তি নয়!’ নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পর বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রতের!

‘তৃণমূল কংগ্রেস কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং কারও মর্জির ওপর গণতন্ত্র চলতে পারে না।’ শনিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বেরিয়ে এমনটাই মন্তব্য করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন উপনির্বাচনে কোন শিবিরের হাতে দলের নাম এবং প্রতীক থাকবে, সেই সংক্রান্ত ফয়সালা করতে এদিন নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হয়েছিল কালীঘাট এবং ঋতব্রত শিবির। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
‘তৃণমূল পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়’
এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কমিশনের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আখরুজ্জামান, অরূপ, চন্দ্রিমার মতো একাধিক নেতা এবং তাঁদের আইনজীবী। কমিশনকে সমস্ত প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ঋতব্রত। তবে এই বৈঠক থেকেই সরাসরি আক্রমণ শানানো হয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঋতব্রত মন্তব্য করেন, ‘‘না খাতা, না বহি—যো ড. মমতা ব্যানার্জী কহে ওহি সহি, এভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেস কোনো পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়, এটি কারও বাবার সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত মালিকানাও নয়। এটি তৃণমূল স্তরের লাখ লাখ কর্মীর দল।’’ তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁরা সমস্ত যুক্তি কমিশনে পেশ করেছেন বলে জানান তিনি।
কী জানা গেল প্রতীক নিয়ে?
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী বলে জানান ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কে কী বলল তার ওপর ভিত্তি করে দলের ভাগ্য নির্ধারিত হবে না, একমাত্র নির্বাচন কমিশনই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশন তাঁদের কাছ থেকে কিছু অতিরিক্ত নথিপত্র চেয়েছে, যা আজই জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রতীক বা বিকল্প প্রতীক নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলেই জানান ঋতব্রত। আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর আটকে রয়েছে।