মাসের শুরুতেই বড় ধাক্কা! ব্যাঙ্ক ধর্মঘট আর উইকেন্ডের জেরে কি টানা চার দিন বন্ধ থাকবে সমস্ত শাখাপ্রশাখা?

দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট এবং পরপর ছুটির জেরে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU)-এর ডাকে দেশজুড়ে সফল হয়েছে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা, পিএলআই (PLI) ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং পেনশন সংক্রান্ত একাধিক অমীমাংসিত দাবি আদায়ের জন্যই এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলি। তবে এই এক দিনের ধর্মঘটের রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে রয়েছে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা। সেপ্টেম্বর মাসে ফের দফায় দফায় ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক: ইউনিয়নগুলির তরফে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি না মানা হলে আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ফের লাগাতার তিন দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট পালিত হবে। শুধু তাই নয়, এর পরেও যদি পরিস্থিতির বদল না ঘটে, তবে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখা হয়েছে। যার জেরে আগামী দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির স্বাভাবিক পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রাহক পরিষেবায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে? ধর্মঘট এবং ছুটির জোড়া ফলার কারণে ব্যাঙ্কগুলির শাখাভিত্তিক কাজকর্মে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে— শাখায় নগদ টাকা জমা বা তোলা।চেক ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত কাজ। নতুন ঋণ অনুমোদন এবং কেওয়াইসি (KYC)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা।জরুরি কাজে ব্যাঙ্কে গিয়ে গ্রাহকদের খালি হাতে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এটিএম (ATM), ইউপিআই (UPI), ইন্টারনেট এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবাগুলি সচল থাকার কথা থাকলেও, অতিরিক্ত চাপের কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। টানা চার দিনের অচলাবস্থার শঙ্কা: ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটের ঠিক পরেই ছিল মাসের দ্বিতীয় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর)। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই টানা তিন দিনের ছুটির কবলে পড়েছিল ব্যাঙ্কিং সেক্টর। এর উপর আবার কিছু কিছু রাজ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার গণেশ চতুর্থীর ছুটির কারণে এই বন্ধের মেয়াদ চার দিনেও গড়াতে পারে। ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির মূল দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো— সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ এবং শনিবার-রবিবার পূর্ণাঙ্গ ছুটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই দাবি ঝুলে থাকায় কর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভ জমেছে। উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে বারবার এই ধরনের ধর্মঘট ও কর্মবিরতির জেরে সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। তাই জরুরি কাজ থাকলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে ডিজিটাল মাধ্যমের উপর ভরসা রাখারই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।