৯/১১-এর ২৫ বছর পরও কি ঘুম ভাঙেনি পশ্চিমের? গোয়েন্দা মহলের কোন বিরাট ভুলের খেসারত দিচ্ছে বিশ্ব?

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আল-কায়েদার আত্মঘাতী বিমান হানার সেই ভয়াল সকাল কেবল মার্কিন মুলুককেই স্তব্ধ করে দেয়নি, বরং বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই হাজার ৯৭৭ জন মানুষ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই ঘটনা এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া বৈদেশিক নীতি, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কৌশলের রূপরেখা নির্ধারণ করে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আড়াই দশক পরেও কি গোয়েন্দা বিভাগ বা রাষ্ট্রশক্তিগুলো সেই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে সঠিক শিক্ষা নিতে পেরেছে?

গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও কল্পনাশক্তির অভাব: ৯/১১-এর ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বললে ভুল হবে। সিআইএ বা এফবিআইয়ের কাছে আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেন সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সঠিক তথ্যের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে না পারার চরম ব্যর্থতাই এই বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সহযোগিতা অনেকটাই বাড়লেও, ইরাক যুদ্ধ বা পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার মতো বড় বড় ভুল বারবার সামনে এসেছে। অস্ত্রভাণ্ডার বা রাজনৈতিক চাপের মুখে ভুল গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে।

নৈতিক পতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে আমেরিকা ও তার মিত্ররা গুয়ানতানামো বে-র মতো কুখ্যাত কারাগার এবং বিচারবহির্ভূত আটক রাখার নীতি গ্রহণ করে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর নৈতিক অবস্থানকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু নজির তৈরি হয়, যা আজও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়।

সন্ত্রাস থেকে চীন-রাশিয়ার চ্যালেঞ্জ: গত দুই দশকে পশ্চিমা বিশ্ব যখন মূলত সন্ত্রাস দমনে ব্যস্ত ছিল, তখন নজরের আড়ালেই শক্তি বাড়িয়ে গেছে চীন ও রাশিয়া। বর্তমান সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাইপারসনিক অস্ত্র, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক আধিপত্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেয়েও বড় সংকট হলো সেই তথ্যের সঠিক কৌশলগত মূল্যায়ন করতে না পারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্ব যত এগোচ্ছে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে আগামী দিনে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বিশ্ববাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *